অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, স্বল্প মেয়াদের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অনেক বিনিয়োগ প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। দুই বছরের সময়ে এ খাতে কোনো প্রকল্প কার্যকর করা যায়নি এবং বেশ কিছু সংস্কার উদ্যোগও দেখানো যায়নি।
গতকাল রোববার তিনি বিদ্যুৎ ভবনে জ্বালানি বিভাগের পাঁচটি অ্যাপ উদ্বোধন ও মহাপরিকল্পনা পর্যালোচনা পরবর্তী সংবাদ বৈঠকে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
উপদেষ্টা বলেন, “দুই বছরে বিদ্যুৎ-জ্বালানির কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায় না। এই খাতে বিনিয়োগ দরকার ছিল, যা আমরা পাইনি সরকারের স্বল্প মেয়াদের কারণে। সৌদি আরবের রাজপরিবারের একজন সদস্যও বিনিয়োগ আলোচনা চলাকালীন সরকারের মেয়াদ জানতে চেয়েছিলেন। মেয়াদ একটু দীর্ঘ হলে বিনিয়োগ আসত। আরেকটি এফএসআরইউ প্রয়োজন ছিল, কিন্তু স্বল্প মেয়াদের কারণে তা হয়নি।”
গত সরকারের দুর্নীতির বিষয়েও তিনি মন্তব্য করেন, “আমরা বিভিন্ন অনিয়ম চিহ্নিত করেছি। এখন সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়িত্ব। আমরা একটি জাতীয় কমিটি ও ট্যারিফ কমিটি গঠন করে কিছু সুপারিশ তৈরি করেছি। পরবর্তী সরকার এগুলো দেখবে।”
বিগত সরকারের সময়ের বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে তিনি বলেন, “এসব প্রকল্পের কোনোটি ক্যাবিনেট কমিটির অনুমোদন পায়নি। অর্থ বিভাগও জানিয়েছে, অনুমোদন হয়নি।”
আদানির বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধের প্রসঙ্গ তুললে ফাওজুল কবির বলেন, “সরকারের ইচ্ছামতো এটি বন্ধ করা হয়েছে এমন কিছু আমরা দেখাতে চাইনি। এজন্য একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক চুক্তি ইচ্ছামতো বাতিল করা সম্ভব নয়।”
রমজানে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “আমি দাবি করছি না যে একেবারেই লোডশেডিং হবে না। তবে যে সরকারই আসুক না কেন, একদম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়বে না। এলপি গ্যাসের সমস্যাটি বোঝার জন্য সরকারের কিছুটা সময় লেগেছে। এখন আমদানির উদ্যোগ নেওয়ায় কোনো সংকট হবে না বলে মনে করি।”
বিদেশি কোম্পানিগুলোর বকেয়া নিয়ে তিনি বলেন, “অনেক বিদেশি কোম্পানি বকেয়া না দিলে গ্যাস সরবরাহ বন্ধের হুমকি দিয়েছিল। এজন্য তাদের বকেয়া আগে পরিশোধ করতে হয়েছে।”