বৃহস্পতিবার, 29 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

তীব্র গরমের সতর্কতা, স্বস্তি আনতে পারে বৃষ্টি

গরমের মৌসুম পুরোপুরি শুরু না হতেই তাপমাত্রা ছুঁইছুঁই ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে গেছে। এপ্রিলের শুরুতেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তীব্র গরমের সতর্কতা, স্বস্তি আনতে পারে বৃষ্টি

গরমের মৌসুম পুরোপুরি শুরু না হতেই তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে গেছে। এপ্রিলের শুরুতেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মাসে দুটি থেকে চারটি মৃদু বা মাঝারি তাপপ্রবাহ এবং এক থেকে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, মৃদু তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা থাকবে ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, মাঝারি তাপপ্রবাহে ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর তীব্র তাপপ্রবাহে তা বেড়ে ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে।

শনিবার সকালের আবহাওয়ার চিত্রে দেখা গেছে, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের ১৮টি জেলাসহ ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, চাঁদপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী ও রাঙ্গামাটি জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বইছে।

গতকাল চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

তবে আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, গত বছরের মতো দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ এ বছর নাও হতে পারে। ২০২৪ সালে টানা ৩৬ দিন তাপপ্রবাহ চলেছিল। এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ বলেন, “আগামীকাল ও পরশু বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। এতে তাপমাত্রা কিছুটা কমবে।”

তিনি আরও বলেন, “এপ্রিলে তাপপ্রবাহ স্বাভাবিক ঘটনা। তবে এ বছর ২০২৪ সালের মতো টানা তাপপ্রবাহ চলবে না।”

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, এপ্রিলে দেশের বিভিন্ন স্থানে তীব্র কালবৈশাখী ঝড় হতে পারে। এর মধ্যে প্রায় সাত দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি এবং এক থেকে তিন দিন বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, “গরমের পর যখন বৃষ্টি হয়, তখন মেঘের উচ্চতা বেশি থাকে। যে কারণে শিলাবৃষ্টি হয়, বৃষ্টি শুরু হলে এই প্রবণতা কমে আসে।”

তাপপ্রবাহের বিষয়ে তিনি জানান, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে, তবে বৃষ্টিপাতের কারণে তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

মার্চ মাসের পরিসংখ্যানেও তাপমাত্রার ওঠানামা দেখা গেছে। সকালে গড় তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে ০ দশমিক ৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি, আর সন্ধ্যায় ছিল ০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। ৪ মার্চ কুড়িগ্রামের রাজারহাটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর ২৭ মার্চ যশোরে সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।

মার্চে মোট ২৪ দিন বৃষ্টি হয়েছে এবং ১৩ মার্চ সিলেটে সর্বোচ্চ ৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। সারাদেশে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় ৩১ শতাংশ বেশি হলেও খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে তা স্বাভাবিকের চেয়ে কম ছিল।

এপ্রিলের শেষ দিকে একটি নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা কম।