যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের মেক্সিকো সীমান্তসংলগ্ন লারেডো শহরে একটি মালবাহী ট্রেনের বগি থেকে ছয় ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত রহস্যজনক বলে অভিহিত করেছে। মৃতদের পরিচয় কিংবা তারা কীভাবে ওই ট্রেনের বগিতে এলেন এবং তাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, সে বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
রবিবার বিকেলে ইউনিয়ন প্যাসিফিক রেলরোডের একটি ইয়ার্ডে মাল খালাস করার সময় জনৈক কর্মী বক্সকারের ভেতরে মরদেহগুলো দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এই ঘটনার পর সীমান্ত দিয়ে বিপজ্জনক উপায়ে যাতায়াত এবং মানবপাচারের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
লারেডো পুলিশ বিভাগের মুখপাত্র হোসে এসপিনোজা জানান, বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। তবে তদন্তের স্বার্থে নিহতদের জাতীয়তা বা অন্য কোনো পরিচয় এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। ইউনিয়ন প্যাসিফিক রেলওয়ে মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পণ্য পরিবহনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। তাই ট্রেনটি কোন রুট দিয়ে এসেছে এবং কোথায় কোথায় বিরতি নিয়েছে, তা নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
মরদেহ উদ্ধারের সময় লারেডো এলাকায় প্রচণ্ড দাবদাহ চলছিল। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সে সময় তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ধারণা করা হচ্ছে, বদ্ধ বগির ভেতরে গুমোট পরিবেশে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করায় অতিরিক্ত গরমে হিট স্ট্রোকের শিকার হয়ে তাদের মৃত্যু হতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার আগে পুলিশ চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
উল্লেখ্য যে, লারেডো অঞ্চলটি মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যের অন্যতম ব্যস্ততম কেন্দ্র। গত বছর এই রুটে ৩৪০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাণিজ্যিক লেনদেন হয়েছে। অত্যন্ত ব্যস্ত এই রুটটি দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মালবাহী যান চলাচল করায় অনেক সময় অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার জন্য মানুষ ট্রেনের বগি বা ট্রাকে লুকিয়ে থাকার ঝুঁকি নেয়, যা মাঝেমধ্যেই এমন প্রাণঘাতী পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়।