গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ) পাঠানো নিয়ে জল্পনা চললেও বাংলাদেশ এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। স্পষ্ট তিনটি শর্ত পূরণ না হলে এ উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না—এমন অবস্থানই তুলে ধরেছে সরকার।
পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, আইএসএফের আওতায় গাজায় বাংলাদেশি বাহিনী পাঠানো বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে বাংলাদেশ তিনটি শর্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।”
তিনি জানান, “এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। কে বা কারা এই উদ্যোগে যুক্ত হবে, তা এখনও নির্ধারিত হয়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, তিনটি শর্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।”
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “এই তিনটি মূল পূর্বশর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি না হলে কোনো অবস্থাতেই বাংলাদেশ এতে যুক্ত হবে না।”
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে এমন আলোচনা কেন—এ প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, “সরকারের মেয়াদ ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে শেষ হচ্ছে, তবে সরকার এখনও কার্যকর রয়েছে।”
তিনি যোগ করেন, “দেশের সম্পৃক্ততা ও স্বার্থ এক রাতের মধ্যে বদলে যায় না এবং জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেবে না।”
পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা আরও বলেন, “আসন্ন ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে বলে তারা আশাবাদী।” একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, “আইএসএফ একটি বৈশ্বিক উদ্বেগের বিষয় এবং এটি পুরোপুরি বাংলাদেশের ওপর নির্ভরশীল নয়।”
অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, কিছু মুসলিম দেশ এই বাহিনীতে অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর আগে সোমবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, গাজার জন্য আইএসএফ গঠনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তের গুরুত্ব তারা স্বীকার করেন এবং কিছু মুসলিম দেশের আগ্রহের বিষয়টি তারা বুঝতে পারছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরাও বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করছি।”
শফিকুল আলম জানান, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অন্যতম বৃহৎ সেনা সরবরাহকারী দেশ এবং ফিলিস্তিনি জনগণের দৃঢ় সমর্থক হিসেবে আইএসএফে অংশগ্রহণের বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ কিছু নীতির পূরণ সাপেক্ষ। এসব নীতির মধ্যে রয়েছে—আইএসএফকে অস্থায়ী হতে হবে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্পষ্ট ম্যান্ডেটের অধীনে পরিচালিত হতে হবে; স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে হবে; গাজা থেকে সব ইসরায়েলি বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করতে হবে; এবং গাজার দায়িত্ব ফিলিস্তিনিদের হাতে হস্তান্তর করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুযায়ী আল কুদস আল শরিফকে রাজধানী করে একটি সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে বাংলাদেশের সমর্থন অটুট। শফিকুল আলম বলেন, “বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার নিন্দা জানিয়েছে এবং এর অবিলম্বে অবসান ও অঞ্চলটি থেকে সব ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।”
বাংলাদেশ আরও উল্লেখ করে, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ প্রস্তাব ২৮০৩ গ্রহণ করে, যেখানে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি গাজার জন্য একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের কথা বলা হয়। শফিকুল আলম জানান, নিরাপত্তা পরিষদের সব মুসলিম সদস্য রাষ্ট্র ওই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশ যৌথভাবে প্রস্তাবটি গ্রহণের সুপারিশ করেছিল।