সপ্তাহের প্রথম দিন রোববার সন্ধ্যায় ঘড়ির কাঁটায় তখন আনুমানিক সাড়ে সাতটা। ট্রেনটি রাজধানী ঢাকার কাছাকাছি পৌঁছানোর মুহূর্তে টঙ্গী জংশনের সংলগ্ন এলাকায় এলে অশুভ এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে বাহির থেকে কেউ বা কারা হঠাৎ বাহনটিকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে জানালার কাচ ভেদ করে আসা শক্ত পাথরের আঘাতে কেঁপে ওঠেন কামরার যাত্রীরা।
এই ন্যাক্কারজনক হামলায় আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন আশুগঞ্জের তালশহর এলাকার তরুণ ফাহিম এবং বিজয়নগরের পাহাড়পুর অঞ্চলের মধ্যবয়সী বাসিন্দা লিটন মিয়া। ভুক্তভোগীদের একজন ফাহিম তার পরিবারের সদস্যের সাথে ব্যবসার কাজে রাজধানী অভিমুখে যাত্রা করেছিলেন। ট্রেনের ভেতরের আসনের আসনে বসে থাকা অবস্থায় আকস্মিকভাবে জানালা দিয়ে আসা পাথরটি প্রথমে এক যাত্রীর মস্তকে আঘাত হানে, এরপর ছিটকে এসে এই কিশোরের কণ্ঠে সজোরে লাগে। আকস্মিক এই হামলায় চরম আতঙ্কিত ও ব্যথায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে কিশোরটি।
অন্যদিকে ঘটনার প্রথম শিকার লিটন মিয়া জানান, নিজ ব্যবসার তাগিদে তাকে প্রতিনিয়ত ঢাকায় যাতায়াত করতে হয়। ঘটনার সময় পাথরের প্রথম সরাসর আঘাতটি সরাসরি তার মাথায় এসে পড়ে। প্রাথমিক ক্ষত কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি শারীরিক অবস্থার মারাত্মক কোনো অবনতি হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে তাকে রাজধানীতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে।
রেলপথে প্রতিনিয়ত ঘটে চলা এই জীবনঘাতী তাণ্ডব ও পাথর ছুড়ে মারার প্রবণতা বন্ধে কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারির তাগিদ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এমন দুষ্কৃতকারীদের প্রতিহত করতে সরকারি পর্যায়ে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং নিরাপত্তা জোরদারের জোরালো দাবি জানান তারা।