ইরানে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটে উত্তাল হয়ে উঠেছে হলিউড। বিনোদন জগতের প্রভাবশালী অভিনয়শিল্পী, সংগীতজ্ঞ, টক শো উপস্থাপক এবং নির্মাতারা এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে ‘বিপজ্জনক’ ও ‘অপ্রয়োজনীয়’ আখ্যা দিয়ে তারা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তবে সংখ্যায় কম হলেও একদল তারকা ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে দেশের শক্ত অবস্থান হিসেবে সমর্থনও করছেন। মূলত গাজা সংকট, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং বিগত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় থেকেই হলিউডে যে বিভাজন ছিল, ইরান যুদ্ধ সেই ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
মার্কিন সংগীতশিল্পী জ্যাক হোয়াইট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়া ক্ষোভ ঝেড়ে লিখেছেন, ট্রাম্প পরিবারের কোনো সদস্যকে রণক্ষেত্রে যেতে হবে না, বরং সাধারণ মানুষের সন্তানরাই প্রাণ হারাবে। ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে তিনি বলেন, শান্তি পুরস্কার না পাওয়া এই নেতার হয়তো তৃতীয় মেয়াদে গিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণ হবে। দীর্ঘদিনের ট্রাম্প সমালোচক রোজি ও’ডনেলও সরব হয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে তাকে ‘মিথ্যাবাদী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং ইমপিচমেন্টের দাবি তুলেছেন।
অস্কার মনোনীত তারকা মার্ক রাফালো ইরান বিষয়ক মার্কিন আলোচক জ্যারেড কুশনারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, যুদ্ধ নিশ্চিত করতেই কুশনারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে জনপ্রিয় অভিনেতা জন কুস্যাক মনে করছেন, এপস্টিন কেলেঙ্কারি থেকে জনমনে মনোযোগ সরাতে এবং ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষায় ইরানকে এই দ্বন্দ্বে জড়ানো হয়েছে। অভিনেত্রী ক্যারি কুন ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কমিটিকে উপহাস করে ‘যুদ্ধ মন্ত্রণালয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপক জিমি কিমেল তার শো-তে ট্রাম্পের ‘একটি সভ্যতা ধ্বংস’ সংক্রান্ত হুমকির তীব্র সমালোচনা করেছেন। কিমেলের মতে, ট্রাম্পের আচরণ হলো প্রথমে ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়ানো এবং পরে সময় বৃদ্ধি করা। একই সুরে সিবিএস চ্যানেলের উপস্থাপক স্টিফেন কোলবার্টও বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্টেমিস-টু মিশনের সদস্যদের কথা টেনে তিনি রসিকতা করে বলেন, পৃথিবীতে বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে মহাকাশচারীদের এখন ফিরে না এসে সেখানেই আরও কিছুদিন চক্কর দেওয়া নিরাপদ।
মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে হলিউডের এই অসন্তোষ নতুন কিছু নয়। এর আগে গাজা যুদ্ধ ইস্যুতেও রবার্ট ডি নিরো এবং জুলিয়েট বিনোশ কান চলচ্চিত্র উৎসবের মতো বিশ্বমঞ্চে ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করেছিলেন। ডি নিরো ট্রাম্পকে ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ হিসেবে অভিহিত করে তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এছাড়া অস্কারের মঞ্চে স্প্যানিশ তারকা হাভিয়ের বারদেম যুদ্ধের বিরুদ্ধে এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর তুলে ধরেছিলেন। মূলত ইরান কেন্দ্রিক এই সংঘাত হলিউডের ভেতরের আদর্শিক দ্বন্দ্বকে পুনরায় বিশ্ববাসীর সামনে নিয়ে এসেছে।