মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর আলটিমেটামের পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। রোববার (৫ এপ্রিল) ভোরে ইসরায়েল ও কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।
এএফপির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, হামলার মাত্র এক দিন আগে ইরানকে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেন ট্রাম্প। অন্যথায় দেশটির ওপর বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
অন্যদিকে ইসরায়েল ও কুয়েত জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে ইরানের হামলা প্রতিহত করছে।
এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই সংঘাত ইতোমধ্যে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও।
এদিকে তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে ইরান। পাশাপাশি তেহরানের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ প্রচেষ্টার সঙ্গে সম্পৃক্ত উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। তবে এ সংঘাত একতরফা নয়—পাল্টা হামলাও অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর জানিয়েছেন, শনিবার দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পকেন্দ্রে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
এদিকে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘মনে আছে, আমি যখন ইরানকে চুক্তি করতে বা হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ১০ দিন সময় দিয়েছিলাম, ...সময় ফুরিয়ে আসছে—৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের ওপর চরম বিপর্যয় নেমে আসবে।’
তিনি এখানে গত ২৬ মার্চ ইরানকে দেওয়া তার আগের আলটিমেটামের কথাও উল্লেখ করেন।
তবে ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড। ইরানি জেনারেল আলী আবদোল্লাহি আলিয়াবাদি ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘অসহায়, আতঙ্কিত, ভারসাম্যহীন ও নির্বোধ পদক্ষেপ’ বলে আখ্যা দেন।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘নরকের দরজা আপনার জন্য খুলে যাবে।’
এরপর ট্রাম্প একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে রাতের আকাশে বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওতে লেখা ছিল, ‘ইরানের অনেক সামরিক নেতা...তেহরানে চালানো এই বড় হামলায় নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি আরও অনেক কিছু হয়েছে।’
তবে ভিডিওতে প্রদর্শিত হামলার নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করেননি ট্রাম্প।