মঙ্গলবার, 20 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

তৃণমূলের সঙ্গে ব্যবধান বাড়াচ্ছে বিজেপি, এগিয়ে ১৯৫ আসনে

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভাগ্য নির্ধারণের দিন আজ। সকাল থেকেই ভোটগণনা শুরু হয়েছে, আর প্রাথমিক ফলাফলে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।

তৃণমূলের সঙ্গে ব্যবধান বাড়াচ্ছে বিজেপি, এগিয়ে ১৯৫ আসনে
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী। ছবি:সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভাগ্য নির্ধারণের দিন আজ। সকাল থেকেই ভোটগণনা শুরু হয়েছে, আর প্রাথমিক ফলাফলে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।

সোমবার (৪ মে) সকালে প্রথমে পোস্টাল ব্যালট গণনা শুরু হয়। এরপর সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ইভিএমের ভোট গণনা শুরু হয়। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আসতে থাকা ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যে প্রথমবারের মতো সরকার গঠনের দিকে এগিয়ে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), যা দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসকে চাপে ফেলেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পাওয়া হিসাবে বিজেপি ১৯৫টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে আছে ৯৩টি আসনে। ২৯৪ সদস্যের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ১৪৮টি আসন।

এদিকে গুরুত্বপূর্ণ ভবানীপুর কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখোমুখি হয়েছেন বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারী। এখন পর্যন্ত ভোটগণনায় এই আসনে এগিয়ে আছেন মমতা, আর পিছিয়ে রয়েছেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু।

আনন্দবাজারের তথ্য অনুযায়ী, ষষ্ঠ রাউন্ড শেষে ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন ৩০,৫৪৮ ভোট, আর শুভেন্দু অধিকারীর ঝুলিতে রয়েছে ১১,১৫৫ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১৯,৩৯৩ ভোটে।

তবে সামগ্রিক ফল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। সংবাদ সংস্থা এএনআইকে তিনি বলেন, 'বিজেপি সরকার গঠন করছে। প্রাথমিক প্রবণতা অনুযায়ী বিজেপি ১৩৫-এর বেশি এবং তৃণমূল প্রায় ১০০টি আসন পাচ্ছে। শুরুতে ভবানীপুরে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। প্রথম রাউন্ডের গণনায় ১৪টি বুথের মধ্যে ৬টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ। গতবার তারা সেই ভোটের ৯০-৯৫ শতাংশ পেত, কিন্তু এবার তা হয়নি; সেখানে ফাটল ধরেছে। আমি ৮টি হিন্দু বুথে এগিয়ে আছি। ভবানীপুরে ৯-১০ নম্বর রাউন্ড থেকে আমিই এগিয়ে থাকব।'

বিজেপির উত্থানের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, 'সেখানে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ রয়েছে, সেই সাথে হিন্দুরা পদ্মফুলের (বিজেপির প্রতীক) পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এটি আমাদের জন্য একটি খুব ভালো সংকেত... এছাড়া মুসলিম ভোটেও বিভাজন হয়েছে, বিশেষ করে মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুরে।'

অন্যদিকে, আসনে পিছিয়ে থাকলেও দলের নেতা-কর্মীদের মনোবল ধরে রাখতে বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, 'দয়া করে কোনো (তৃণমূল) প্রার্থী এবং কাউন্টিং এজেন্ট গণনাকেন্দ্র ছেড়ে আসবেন না। এটা বিজেপির প্ল্যান (পরিকল্পনা)।'

তিনি আরও বলেন, 'আমি গতকাল থেকে বলছি, ওদেরগুলো (এগিয়ে থাকা আসন) আগে দেখাবে। আমাদেরগুলো পরে দেখাবে। অনেক জায়গায় কাউন্টিংয়ের বন্ধ করে রেখে দিয়েছে। কল্যাণীতে এমন সাতটি মেশিন ধরা পড়েছে, যেখানে কোনো মিলই নেই।'

কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, 'কেন্দ্র জোর করে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে তৃণমূলের ওপর অত্যাচার করছে। অফিস ভাঙছে। জোর করে দখল করছে। এসআইআরের নামে ভোট লুট করেছে।'

দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'মনখারাপ করার কারণ নেই। আমি বলেছিলাম, সূর্যাস্তের পরে আপনারা জিতবেন। তিন-চার রাউন্ড সবে কাউন্ট হল। ১৮-১৯ রাউন্ড কাউন্ট হয়। তখন আপনারা জিতবেন। ওয়েট অ্যান্ড সি, ওয়াচ। আমরা আপনাদের সঙ্গে রয়েছি। আপনারা কেউ ভয় পাবেন না। নিশ্চিন্তে থাকুন। আমরা বাঘের বাচ্চার মতো লড়াই করে যাব।'

উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে দ্বিতীয় দফায় দক্ষিণবঙ্গের সাত জেলার ১৪২টি আসনে ভোট হয়। যদিও মোট ২৯৪টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, তবে আজ গণনা হচ্ছে ২৯৩টি আসনের। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা আসনের ভোট ‘অনিয়মের অভিযোগে’ বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। সেখানে আগামী ২১ মে পুনরায় ভোটগ্রহণ হবে এবং ২৪ মে গণনা অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ২১৫টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করেছিল। সে সময় বিজেপি পেয়েছিল ৭৭টি আসন, আর বাকি দুটি আসন যায় অন্যান্য দলের ঝুলিতে।