রবিবার, 8 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

তৃণমূলকে সক্রিয় রাখতে মাঠের কর্মসূচিতে বিএনপি

রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সক্রিয় ও ব্যস্ত রাখতে নতুন করে মাঠের কর্মসূচিতে ফিরছে বিএনপি।

তৃণমূলকে সক্রিয় রাখতে মাঠের কর্মসূচিতে বিএনপি
ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সক্রিয় ও ব্যস্ত রাখতে নতুন করে মাঠের কর্মসূচিতে ফিরছে বিএনপি। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ জনগণের সামনে তুলে ধরা এবং বিরোধী দলগুলোর নেতিবাচক প্রচারণার মোকাবিলা করাই এই কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য।

ইতিমধ্যে কেন্দ্র থেকে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। এই সাংগঠনিক তৎপরতার অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার ঝালকাঠিতে যুবদলের পক্ষ থেকে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ১৯ বছর পর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর বর্তমানে রাষ্ট্র সংস্কারের ‘জুলাই সনদ’ এবং ‘গণভোট’ নিয়ে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সৃষ্ট মতবিরোধ নিরসনে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। বিশেষ করে বিরোধী পক্ষ যাতে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে না পারে, সেজন্য পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে পথসভা, উঠান বৈঠক ও লিফলেট বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিএনপি শুরু থেকেই সংস্কারের পক্ষে থাকলেও গণভোটের মাধ্যমে পাস হওয়া সংস্কার প্রস্তাবের দায়ভার নিতে রাজি নয়, যা জনগণের কাছে পরিষ্কার করাই দলটির বর্তমান লক্ষ্য।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ প্রসঙ্গে বলেন, কিছু দল প্রচার করছে যে বিএনপি সংস্কার চায় না, যা সম্পূর্ণ অসত্য। বিএনপি কেবল সংস্কার চায়ই না, বরং তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতেও বদ্ধপরিকর। গত শনিবার এক মতবিনিময় সভায় দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থানীয় সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে সাংগঠনিক কর্মসূচি জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেশের প্রতিটি জেলা ও মহানগর শাখায় পাঠানো হয়েছে।

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, ক্ষমতা গ্রহণের পর তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হওয়া ক্ষোভ ও প্রত্যাশার চাপ সামাল দিতেই দল ও সরকারকে আলাদা সত্তা হিসেবে রাখার পরিকল্পনা করছেন তারেক রহমান। তিনি মনে করেন, দল ও সরকার একাকার হয়ে গেলে জনবিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত রেখে দলকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি।

আগামী কোরবানির ঈদের পরপরই বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা ও মহানগর কমিটিসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন পুনর্গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। ত্যাগী ও যোগ্য কর্মীদের মূল্যায়নের মাধ্যমে সংগঠনকে আরও চাঙ্গা করা হবে বলে নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। রুহুল কবির রিজভী বলেন, গঠনমূলক সমালোচনাকে সরকার স্বাগত জানালেও উদ্দেশ্যমূলক মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় তারা সরাসরি জনগণের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বর্তমানে এই সাংগঠনিক কর্মসূচির মাধ্যমে সারা দেশে দলের অবস্থান আরও সুসংহত করার চেষ্টা চলছে।