তুরাগ নদের আশুলিয়া ঘাট এলাকায় সম্প্রতি কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের অভিযানে দলটির সাতজন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়।
তবে এই গ্রেফতার অভিযানের সময় ধাওয়া খেয়ে বেশ কয়েকজন কর্মী নদীতে ডুবে নিখোঁজ হন বলে অভিযোগ উঠেছে, যা পরবর্তীতে তুরাগ নদ থেকে একাধিক মরদেহ উদ্ধারের পর দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা গেছে, গত ২২শে জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ৬০ থেকে ৬৫ জন নেতা-কর্মী একটি মিছিল বের করেন। তারা তুরাগ নদে ট্রলারে চড়ে আশুলিয়া ঘাটের দিকে রওনা হন। সেখানে পৌঁছানোর পর আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা তাদের ওপর অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেফতার করে। তবে মিছিলে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীদের দাবি, ওই এলাকায় তাদের ওপর আকস্মিক হামলা ও ধাওয়া দেওয়া হয়। এর ফলে আত্মরক্ষার্থে অনেকেই নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং অন্তত সাতজন কর্মী পানির নিচে তলিয়ে নিখোঁজ হন। এই ঘটনার পর টানা চার দিনে তুরাগ নদের বিভিন্ন স্থান থেকে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর কৌতুহল ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নানারকম সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার প্রকৃত সত্যতা অনুসন্ধানে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ প্রশাসন এবং নিহতের স্বজনদের সাথে যোগাযোগ করা হয়। আশুলিয়া থানা পুলিশ অবশ্য তাদের গ্রেফতার অভিযানের স্থান থেকে নদীতে পড়ে নিখোঁজ বা মৃত্যুর পুরো অভিযোগটিকেই সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে এই দাবি করা হলেও, ২২শে জুনের ঘটনার পর থেকে তুরাগের অববাহিকায় একের পর এক লাশ ভেসে ওঠায় নিহতদের পরিচয় নিয়ে জনমনে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দেয়। মিছিলে সম্পৃক্ত আওয়ামী লীগ কর্মীদের জোরালো দাবি, তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত দুজন সেদিন তাদের কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন।
নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এবং বর্তমানে আত্মগোপনে থাকা মিছিলে অংশ নেওয়া এক আওয়ামী লীগ কর্মী জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃতদের মধ্যে আরিফ ও সুমন নামের দুই যুবক ২২শে জুনের ওই ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুমন যুবলীগের এবং আরিফ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। ঘটনার দিন তিনিও পুলিশ ও হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে নদীতে লাফ দিয়ে সাঁতরে পার হয়ে কোনোমতে নিজের জীবন রক্ষা করেন বলে উল্লেখ করেন।