শুক্রবার, 23 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

নির্বাচনের পর চুক্তি, না হলে ‘ধ্বংস’ করা হতে পারে ইরানকে: জাতিসংঘে ট্রাম্প

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কি ইসলামিক রিপাবলিককে ধ্বংস করব এবং সেটা দ্রুত করব, তাদের আর কখনো মানুষ ও দেশ ধ্বংস করার সুযোগ না দিয়ে? নাকি তাদের এমন অবস্থায় নিয়ে যাব, যেখান থেকে তাদের বেঁচে থাকার বা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কোনো আশাই থাকবে না?’

নির্বাচনের পর চুক্তি, না হলে ‘ধ্বংস’ করা হতে পারে ইরানকে: জাতিসংঘে ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না গেলে ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস’ করার পথ বেছে নেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে বলেও ‘বিশ্বাসের’ কথা জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া দীর্ঘ ভাষণে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে ছিল ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ, দেশটির পরমাণু কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং সংঘাতের সম্ভাব্য পরিণতি। রয়টার্স, এপি ও আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের পর দ্বিতীয় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দেন ট্রাম্প। এর আগে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা।

ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তাঁর সামনে এখন একটি ‘বড় সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার বিষয় রয়েছে। চুক্তির মাধ্যমে ইরানকে আবার গড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া হবে, নাকি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে ‘ধ্বংস’ করা হবে—এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কি ইসলামিক রিপাবলিককে ধ্বংস করব এবং সেটা দ্রুত করব, তাদের আর কখনো মানুষ ও দেশ ধ্বংস করার সুযোগ না দিয়ে? নাকি তাদের এমন অবস্থায় নিয়ে যাব, যেখান থেকে তাদের বেঁচে থাকার বা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কোনো আশাই থাকবে না?’

তবে একই সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার কথাও বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে। তাঁর ভাষায়, ‘আমি বিশ্বাস করি, নির্বাচনের পরপরই আমরা একটি চুক্তি করব। কারণ, তাদের জন্য সেটা না করার কোনো অর্থ হয় না।’

তবে ইরান নিয়ে তাঁর নীতির সঙ্গে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তির পথে যাওয়া নাকি আরও বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানো—এমন সিদ্ধান্ত তাঁর সামনে রয়েছে।

জাতিসংঘের মঞ্চে আবারও ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়ার অঙ্গীকার করেন ট্রাম্প। এ বক্তব্যের পর সম্মেলনকক্ষে সংক্ষিপ্ত করতালি হয়। ট্রাম্প বলেন, একসময় মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ব্যাপক প্রভাব থাকলেও এখন আর সেই অবস্থান নেই। দেশটির ওপর চাপ বাড়াতে অন্য দেশগুলোকেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ট্রাম্পের ভাষ্য, ইরান বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ না করা, পরমাণু কর্মসূচির উচ্চাকাঙ্ক্ষা পরিত্যাগ না করা এবং ‘সন্ত্রাসে’ সমর্থন বন্ধ না করা পর্যন্ত দেশটির ওপর ‘সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা’ বজায় রাখতে হবে।

চলমান যুদ্ধের প্রায় সাত মাস পরও ইরানের পরমাণু সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ইরান-সম্পৃক্ত শক্তিগুলোর তৎপরতায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

এদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ওয়াশিংটন প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত এ ধরনের কোনো বৈঠক নির্ধারিত হয়নি। রুবিও বলেছেন, আলোচনা হলে এর মূল লক্ষ্য হবে ইরানকে কখনোই পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়া।

এআই নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা, ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ চান ট্রাম্প

ভাষণের আরেকটি বড় অংশজুড়ে ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস যেখানে এআইয়ের নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়েছেন, ট্রাম্প সেখানে প্রযুক্তিটির বিকাশে বিধিনিষেধ আরোপের বিরোধিতা করেন।

ট্রাম্প বলেন, এআই প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে চীনের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে। তাঁর মতে, এ প্রযুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব শিল্পবিপ্লবের চেয়েও বড় হতে পারে। তাই এর বিকাশ থামিয়ে দেওয়া উচিত হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নথিতে এআইকে ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ হিসেবে উল্লেখ করার প্রস্তাবও দেন তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা শুধু সুপারইন্টেলিজেন্সকে উৎসাহিত করব। আমরা এটিকে নিয়ন্ত্রণ করে আটকে রাখব না।’ তবে বিচার বিভাগের মাধ্যমে প্রযুক্তিটির ওপর নজর রাখা হবে বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘যে এআই জিতবে, যে সুপারইন্টেলিজেন্স জিতবে, সে-ই জিতবে।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সমালোচনা

ভাষণে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি)ও সমালোচনা করেন ট্রাম্প। আদালতটিকে ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ ও ‘বেপরোয়া’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বর্ণনা করে এর সদস্য দেশগুলোকে সংস্থাটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ট্রাম্প প্রশাসন আইসিসির বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশেষ করে ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আইসিসির আগের তদন্তের বিষয়ে ওয়াশিংটনের আপত্তি রয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও নিজের আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে দাবি করে তিনি বলেন, যুদ্ধের অবসান ঘটবে এবং তা অনেকের ধারণার চেয়েও দ্রুত হতে পারে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ওই যুদ্ধটিও শেষ করব।’ তবে দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বললেও তাঁর প্রশাসনের উদ্যোগ এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান আনতে পারেনি।