বৃহস্পতিবার, 15 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

উন্নত বাংলাদেশ গড়তে দক্ষ যুবসমাজ গড়ে তোলার বিকল্প নেই : রাষ্ট্রপতি

একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য তরুণ প্রজন্মকে সমসাময়িক জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রকৌশল এবং প্রযুক্তিগত শিক্ষা ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণে দীক্ষিত করার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

উন্নত বাংলাদেশ গড়তে দক্ষ যুবসমাজ গড়ে তোলার বিকল্প নেই : রাষ্ট্রপতি
ছবি : সংগৃহীত

একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য তরুণ প্রজন্মকে সমসাময়িক জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রকৌশল এবং প্রযুক্তিগত শিক্ষা ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণে দীক্ষিত করার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রের উপযোগী করে যুবসমাজকে প্রস্তুত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে ‘বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে উল্লেখ করেন, জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এই দিবসটি উদযাপনের উদ্যোগকে তিনি সাধুবাদ জানান। এই মাহেন্দ্রক্ষণে তিনি দেশের তরুণ সমাজ, শিক্ষকমণ্ডলী, প্রশিক্ষক, নতুন উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক এবং মানবসম্পদ ও দক্ষতা উন্নয়নের কাজে যুক্ত সর্বস্তরের অংশীজনকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

তিনি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন, যেকোনো দেশের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং সার্বিক অগ্রগতি ও উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হলো তাদের যুবসমাজ। তাই এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে আধুনিক শিক্ষা ও উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা অত্যন্ত জরুরি।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চলমান অভিঘাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নিত্যনতুন প্রযুক্তির অভাবনীয় বিকাশের ফলে বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদা প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে ই-কমার্স, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিক্স, ব্লকচেইন, ইন্টারনেট অব থিংস, সাইবার নিরাপত্তা ও ন্যানোপ্রযুক্তির মতো ডিজিটাল প্রযুক্তির নানামুখী শাখায় পারদর্শী জনশক্তি তৈরি করা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। এই প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই তরুণদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী দক্ষ কর্মী, সফল উদ্যোক্তা এবং দূরদর্শী উদ্ভাবক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান উন্নয়নকামী সরকার যুবসমাজের দক্ষতা বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। সরকারের জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে একটি সুসমন্বিত, মানসম্মত এবং দূরদর্শী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে শিক্ষাক্রম প্রণয়ন, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর নিবন্ধন, জাতীয় দক্ষতা সনদ প্রদান এবং সামগ্রিক মান তদারকি ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও আধুনিক করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তরুণদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক মানের সনদ প্রদানের লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো দেশ-বিদেশের কর্মসংস্থানের উপযোগী মানবসম্পদ ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখবে।

পরিশেষে তিনি বলেন, দক্ষতা বৃদ্ধির সাথে যুক্ত সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং শিল্প-বাণিজ্য খাতসহ সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশে একটি মেধা ও দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে তরুণ সমাজকে নিত্যনতুন দক্ষতা অর্জনে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করার তাগিদ দিয়ে তিনি এই দিবসটি উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেন।