আজ ১৯ শে মার্চ, ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনী গাজীপুরের জয়দেবপুরে ২য় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা করলে সাধারণ মানুষ ও সৈনিকরা রুখে দাঁড়ায়। এই ঘটনার পর মুক্তিকামী বাঙালির মুখে মুখে স্লোগান ছড়িয়ে পড়ে—জয়দেবপুরের পথ ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো।
সশস্ত্র সৈনিকদের পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে সংঘটিত এই প্রতিরোধ ছিল মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র আন্দোলন। দিনটিকে স্মরণে রাখতে সাধারণ জনতা ও সৈনিকদের সম্মানে নির্মিত হয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম ভাস্কর্য—জাগ্রত চৌরঙ্গী।
গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরের চৌরাস্তায় ভাস্কর্যটি অবস্থিত। ১৯শে মার্চ চৌরাস্তার সরেজমিনের চিত্রে দেখা যায়, ভাস্কর্যটির শুধু ধ্বংসাবশেষ টিকে আছে। স্থাপনাটিকে বিশেষ মর্যাদা ও দৃষ্টি নন্দন করে তুলতে ভাস্কর্যের সাথে সংযুক্ত একটি মুক্তমঞ্চ নির্মিত হয়, সেই মুক্তমঞ্চ এখন ঢেকে আছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানার ও বিজ্ঞাপনের পোস্টার।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা হয়। স্থানীয় ও সচেতন মহলের অনেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলেও দায়িত্বশীল কেউ ভাস্কর্যটি সংস্কারের পদক্ষেপ নেয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দিবসটির বেপারে পরবর্তী কোনো সরকারের পক্ষ থেকে গুরুত্ব দেখানো হয়নি। এবারেও আয়োজনহীন, উপেক্ষায় পার হল সশস্ত্র প্রতিরোধ দিবস।