কেনিয়ার মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলীয় কাউন্টিগুলোতে প্রবল বর্ষণের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
রোববার দেশটির পুলিশ বিভাগ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির খবর নিশ্চিত করেছে। দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে কেনিয়ার থারাকা নিথি, এলগেয়ো-মারাকওয়েট এবং কিয়াম্বু কাউন্টিতে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন।
দেশটির পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, কাদা ও ভূমিধসে ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যার ফলে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন অনেক মানুষ। পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্লাবিত এবং ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজধানী নাইরোবির অবস্থা এখন নাজুক; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যাচ্ছে শহরের প্রধান সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে এবং মানুষ ও যানবাহন কোমর সমান পানির মধ্য দিয়ে চলাফেরা করছে।
বন্যার কারণে রাস্তাঘাটের বেহাল দশা এবং ব্যবসায়িক ক্ষতির প্রতিবাদে নাইরোবির মাকঙ্গেনি ও রুয়াই এলাকার ব্যবসায়ীরা রোববার বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। এর আগে গত শুক্রবার আবহাওয়া দপ্তর থেকে এক সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছিল যে, এই অতিবৃষ্টির ফলে একদিকে যেমন ফসলি জমির ক্ষতি হবে, অন্যদিকে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাবও বাড়তে পারে। কেনিয়ায় গত মার্চ মাসেই বন্যায় ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যা দুই মাসের মধ্যে দেশটিতে দ্বিতীয় দফায় বড় ধরনের প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোতে আবহাওয়ার এই চরম প্রতিকূলতা দেখা দিচ্ছে। কেনিয়ায় সাধারণত মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত বর্ষাকাল থাকলেও এবার বৃষ্টির তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অতীতের তুলনায় অনেক বেশি। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি)-এর দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এবং খরার মতো চরম আবহাওয়া আফ্রিকান দেশগুলোর শহরগুলোতে ক্রমেই বড় ধরনের সংকট তৈরি করছে। অবিরত এই বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে পুরো দেশ।