বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অব্যাহত হত্যাকাণ্ড, পুশ-ইন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত নির্যাতনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দেশের সাধারণ মানুষকে ভারতীয় আধিপত্যবাদী নীতির বিরুদ্ধে সর্বদা সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে তিনি এই জাতীয় সংহতির ডাক দেন।
সীমান্তে আগ্রাসন ও ভারতীয় একাধিপত্য রুখে দেওয়ার প্রত্যয়ে শাহবাগ মোড়ে এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্যজোট। সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধা প্রদর্শন করছে না। এই পরিস্থিতিতে দেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা রক্ষার্থে সর্বস্তরের জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির কোনো বিকল্প নেই।
বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী কর্তৃক পুশ-ইনের অপচেষ্টা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জোটের পক্ষ থেকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশের সচেতন নাগরিক সমাজ যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং বাহ্যিক হস্তক্ষেপ প্রতিহত করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
সমাবেশের শুরুতে উদ্বোধনী বক্তব্যে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার প্রধানতম জাতীয় আকাঙ্ক্ষাগুলোর একটি ছিল সীমান্তে ফেলানীর মতো আর কোনো নাগরিকের হত্যাকাণ্ড দেখতে না পাওয়া। তবে বর্তমান প্রশাসন এই সীমান্ত হত্যা পুরোপুরি বন্ধ করতে দৃশ্যত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
শাহবাগ মোড়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে একটি বিশাল প্রতিবাদী মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে মৎস্য ভবন মোড় হয়ে পুরানা পল্টনে গিয়ে শেষ হয়। সমাবেশে জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষনেতারা অংশ নেন।