শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ভেস্তে গেল ইসলামাবাদে শান্তির আলোচনা, এরপর কী?

আশা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হলো ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা। শুরু থেকেই দুই পক্ষের কঠোর অবস্থানের কারণে সমঝোতার সম্ভাবনা ক্ষীণ ছিল, আর শেষ পর্যন্ত উভয়েই একে অপরকে দায়ী করে বৈঠক ত্যাগ করে।

ভেস্তে গেল ইসলামাবাদে শান্তির আলোচনা, এরপর কী?
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে (বাঁয়ে) বিদায় জানান পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসিম মুনির। পাশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। রোববার ইসলামাবাদে। ছবি: এএফপি

আশা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হলো ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা। শুরু থেকেই দুই পক্ষের কঠোর অবস্থানের কারণে সমঝোতার সম্ভাবনা ক্ষীণ ছিল, আর শেষ পর্যন্ত উভয়েই একে অপরকে দায়ী করে বৈঠক ত্যাগ করে।

আলোচনার পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে? বিবিসির আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা জো ইনউডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল হরমুজ প্রণালি, যা ইরান কার্যত আংশিকভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। আলোচনার মাধ্যমে এর ভবিষ্যৎ উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা এখন প্রায় শেষ হয়ে গেছে। পাশাপাশি উপসাগরে দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশলগত অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কঠোর হুমকির পর দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। তখন আশা করা হয়েছিল, আলোচনার মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়া যাবে। কিন্তু আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় এখন ইরানে নতুন হামলার আশঙ্কা তৈরি হলেও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে অতীতের হুমকিগুলো পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

ওয়াশিংটনের দাবি, আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ার মূল কারণ হলো ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কার্যক্রম বন্ধের বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা দিতে রাজি হয়নি। তবে তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান উত্তেজনা ও সাম্প্রতিক সংঘাত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও বাড়াতে পারে।

জো ইনউড তার প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সরাসরি আলোচনা ছিল ঐতিহাসিক, তবে তা হয়তো ভবিষ্যতে কূটনৈতিক ব্যর্থতার উদাহরণ হিসেবেই স্মরণ করা হবে।

মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো রস হ্যারিসন সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি প্রকাশ্যে যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, একই অবস্থান রুদ্ধদ্বার বৈঠকেও বজায় থাকে, তাহলে নিকট ভবিষ্যতে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হবে।

আলজাজিরাকে দেওয়া মন্তব্যে তিনি বলেন, ‘প্রকাশ্যে যা দেখা গেছে ভেতরেও যদি সত্যিই তাই হয়ে থাকে, তাহলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ খুবই সংকীর্ণ।’ তবে সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আশা করি প্রকাশ্যে যা দেখা গেছে সেটা ছিল শুধুই দেখানোর জন্য। আর পর্দার আড়ালে হয়তো সত্যিকারের অগ্রগতি হয়েছে। তবে এটা বুঝতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে।’