শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল-ফোন নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত অবাস্তব ও পরস্পরবিরোধী: টিআইবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত পরস্পরবিরোধী, অযৌক্তিক এবং অপরিকল্পিত, যা নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল-ফোন নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত অবাস্তব ও পরস্পরবিরোধী: টিআইবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত পরস্পরবিরোধী, অযৌক্তিক এবং অপরিকল্পিত, যা নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে টিআইবি জানায়, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষেধাজ্ঞা স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার নীতির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। সংস্থাটি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, ভোটারদের নিরাপত্তা ও আস্থা বাড়ানোর বদলে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা ভোটার উপস্থিতি নিরুৎসাহিত করতে পারে এবং পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে সন্দেহ সৃষ্টি করতে পারে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘যদি উদ্দেশ্য হয় মোবাইল ফোন ও প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকানো, তাহলে লক্ষ্যভিত্তিক ও যুক্তিসংগত নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। কিন্তু ভোটারদের মৌলিক প্রয়োজন—যোগাযোগ, নিরাপত্তা ও জরুরি সহায়তা উপেক্ষা করে সার্বিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা মূলত মাথাব্যথার চিকিৎসায় মাথা কেটে ফেলার মতো।’

তিনি আরও বলেন, ‘বরং এতে তথ্যপ্রবাহে বিঘ্ন, স্বচ্ছতা হ্রাস এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনআস্থার সংকটের ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নির্বাচন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, সমান সুযোগ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রশ্নে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করে।’

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা সাংবাদিক, নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং অন্যান্য অংশীজনের জন্য বাস্তব ও কার্যকর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি বলেন, ‘সারা দেশে বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক তাৎক্ষণিকভাবে খবর, ছবি ও ভিডিও ধারণ ও প্রচারের জন্য মূলত মোবাইল ফোনের ওপর নির্ভর করেন। অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনে অনিয়ম, কারচুপি ও সহিংসতার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রমাণ প্রায়ই মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই সামনে এসেছে।’

তার মতে, মোবাইল ফোন ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে এবং সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা অন্যান্য অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

এ ছাড়া টিআইবির নির্বাহী পরিচালক সতর্ক করে বলেন, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত ভোটারদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার ক্ষেত্রেও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।