আজ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর চলাকালীন বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের একটি সম্পূরক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আইনমন্ত্রী এই তথ্য তুলে ধরেন।
প্রক্রিয়াটির ব্যাখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই ধরনের মামলাগুলো প্রত্যাহারের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের অধীনে একটি বিশেষ কমিটি কাজ করছে। ওই কমিটির পাঠানো সুপারিশমালা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাত ঘুরে আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের আরেকটি কমিটিতে আসে। সেখানে প্রতিটি মামলার আইনগত দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে প্রত্যাহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং আগামীতেও এই ধারা চালু থাকবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য করা মামলাগুলোর ক্ষেত্রে সরকার সম্পূর্ণ আইনি ও স্বচ্ছ একটি পথ অনুসরণ করছে, যাতে প্রকৃত হয়রানিমূলক মামলাগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
তবে আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্তদের বিষয়ে মো. আসাদুজ্জামান স্পষ্ট করে জানান যে, সাজাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির মামলা সরাসরি প্রত্যাহার করার এখতিয়ার সরকারের নেই। কোনো মামলায় যদি উচ্চ আদালতে আপিল চলমান থাকে, তবে সবার আগে সেই আপিল নিষ্পত্তি হতে হবে।
আইনগত বিকল্পের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপিল নিষ্পত্তির পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা মোতাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি আইনি মতামতের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং তার ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি আইন অনুযায়ী সাজা মওকুফ কিংবা মার্জনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন।
মন্ত্রী আরও জানান, দেশের সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার একটি সুযোগ রয়েছে। এই প্রক্রিয়াতেও আবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেই যাবে এবং আইন মন্ত্রণালয় সেখানে প্রয়োজনীয় আইনি মতামত দেবে। ফলশ্রুতিতে, সাজা হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে মামলা সরাসরি প্রত্যাহারের কোনো বিধান না থাকলেও আইনি পথ সচল রেখে সাজা হ্রাস বা রাষ্ট্রপতির মার্জনা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।