হোয়াইট হাউসে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানসহ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারের জোরালো অনুরোধের প্রেক্ষাপটেই মার্কিন প্রশাসন এই আলোচনায় সম্মত হয়েছে। একটি ইতিবাচক সমাধান বা চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এটিই ইরানের জন্য শেষ সময় বলে সতর্ক করে দেন তিনি।
এর আগে নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানি সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তাদের বিভ্রান্তিকর আচরণের জন্য অভিযুক্ত করেন। তেহরান আনুষ্ঠানিক অস্বীকার করলেও নেপথ্যে যে মধ্যস্থতার প্রক্রিয়া সচল রয়েছে, সে বিষয়টি তিনি জোর দিয়ে তুলে ধরেন।
অন্যদিকে ওয়াশিংটনের এই অনমনীয় অবস্থানের বিপরীতে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে তেহরান। ইরানের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের শীর্ষ পরামর্শক মহসিন রেজাই এক টিভি সাক্ষাৎকারে জানান, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এলাকায় অতিরিক্ত কোনো যাতায়াত পথ খুলতে দেওয়া হবে না। ওই জলসীমায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি জোরদার করা হলে কঠোর আঘাত হানার হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের এমন উসকানিমূলক আচরণ নতুন এক বিশ্বযুদ্ধের সূচনা করতে পারে।
একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সমস্ত দাবি নাকচ করেছে ইরানি পররাষ্ট্র দপ্তর। তাদের স্পষ্ট বার্তা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলাদা কোনো দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের উদ্যোগ তাদের নেই এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে কেবল ওমানের সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে তারা কথা বলছেন। ইরানের রাষ্ট্রপ্রধান মাসুদ পেজেশকিয়ানও নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখে সংকট আর না বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।
এদিকে ইরানের ওপর মার্কিন হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি পণ্যের মূল্যে সাময়িক স্বস্তি দেখা গেলেও, চলমান আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তেলের বাজার আবারও নতুন করে অস্থির হয়ে উঠছে।