গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ইরানের বেসামরিক সামুদ্রিক সেক্টর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। দেশটির মার্চেন্ট মেরিন ইউনিয়ন জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৪ জন ইরানি নাবিক ও বন্দর কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া এই সময়ে বিভিন্ন হামলায় আহত হয়েছেন আরও ২৯ জন।
শুক্রবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে ইরানের মার্চেন্ট মেরিনার্স সিন্ডিকেটের মহাসচিব সামান রেজায়ির বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। রেজায়ি জানান, নিহতদের মধ্যে ২২ জন বেসামরিক বাণিজ্যিক নাবিক, ১৬ জন মৎস্যজীবী এবং ৬ জন ডক কর্মী রয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ এপ্রিলের মধ্যে এই হতাহতের ঘটনাগুলো ঘটেছে। তবে এই পরিসংখ্যানে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের নিয়মিত নৌবাহিনীর সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। মূলত ইরানের পোর্টস অ্যান্ড মেরিটাইম অর্গানাইজেশন এবং ইউনিয়নের নিজস্ব সদস্যদের তথ্যের ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা এসিএলইডি-র পরিসংখ্যান বলছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ইরানজুড়ে ৩ হাজারেরও বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি পাল্টা হামলা পরিচালনা করেছে। এই পাল্টাপাল্টি আক্রমণের শিকার হয়েই দেশটির বেসামরিক নৌ-খাতের বিপুল সংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। মূলত সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ও মৎস্য আহরণ এখন ইরানি নাগরিকদের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।