বৃহস্পতিবার, 22 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্রে রাজা চার্লসের চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শুরু

কূটনৈতিক নানা জটিলতা এবং সাম্প্রতিক নিরাপত্তা উদ্বেগের আবহে চার দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলা।

যুক্তরাষ্ট্রে রাজা চার্লসের চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শুরু
ছবি : সংগৃহীত

কূটনৈতিক নানা জটিলতা এবং সাম্প্রতিক নিরাপত্তা উদ্বেগের আবহে চার দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলা।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া এই সফরের মধ্য দিয়ে লন্ডন ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার ঐতিহাসিক মৈত্রীকে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ব্রিটিশ দূত স্যার ক্রিশ্চিয়ান টার্নার এই সফরকে দুই দেশের চিরায়ত বন্ধুত্বকে নতুন করে প্রাণবন্ত করার একটি অনন্য সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এক অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক গোলাগুলির ঘটনার পর এই সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও শেষ পর্যন্ত তা অপরিবর্তিত থাকে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে আলোচনার পর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এই সফরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলা ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্প পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন। সফরের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে, যেখানে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প দম্পতি ব্রিটিশ রাজপরিবারকে অভ্যর্থনা জানাবেন।

আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই সফরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষ করে ইরান ইস্যুসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক বিষয়ে যখন দুই দেশের প্রশাসনের মধ্যে মতপার্থক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তখন রাজপরিবারের এই উপস্থিতি সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও বিবিসির কাছে আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই সফর দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। সফরের কর্মসূচির মধ্যে রাজা চার্লসের মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ প্রদান এবং নিউইয়র্কের ৯/১১ মেমোরিয়ালে শ্রদ্ধা নিবেদনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের মতে, এই সফরের প্রভাব কেবল রাজনৈতিক অঙ্গনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার এবং শিক্ষা ও পর্যটন খাতের অংশীদারিত্বকে আরও সমৃদ্ধ করাই এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য। হোয়াইট হাউসের ঐতিহ্যবাহী চা চক্র এবং গার্ডেন পার্টির মাধ্যমে দুই দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকেও বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা হবে।