শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

‘যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত ‘অতিরিক্ত’, দ্বিতীয় ধাপে আলোচনার সুযোগ নেই’: ইরান

দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার কূটনৈতিক তৎপরতা শেষে কোনো ধরনের ঐকমত্য ছাড়াই শেষ হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বহুল আলোচিত শান্তি আলোচনা। ওয়াশিংটনের দেওয়া বিভিন্ন শর্তকে অযৌক্তিক ও মাত্রাতিরিক্ত আখ্যা দিয়ে তেহরান এই সংলাপ প্রত্যাখ্যান করেছে। রোববার সকালে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা প্রক্রিয়া থেকে সরে যাওয়ার অযুহাত খুঁজছিল। তাদের দাবিগুলো এতই উচ্চাভিলাষী ছিল যে, যা তারা সরাসরি যুদ্ধের ময়দানেও অর্জন করতে সক্ষম হয়নি।

‘যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত ‘অতিরিক্ত’, দ্বিতীয় ধাপে আলোচনার সুযোগ নেই’: ইরান
ছবিঃ সংগৃহীত

দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার কূটনৈতিক তৎপরতা শেষে কোনো ধরনের ঐকমত্য ছাড়াই শেষ হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বহুল আলোচিত শান্তি আলোচনা। ওয়াশিংটনের দেওয়া বিভিন্ন শর্তকে অযৌক্তিক ও মাত্রাতিরিক্ত আখ্যা দিয়ে তেহরান এই সংলাপ প্রত্যাখ্যান করেছে। রোববার সকালে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা প্রক্রিয়া থেকে সরে যাওয়ার অযুহাত খুঁজছিল। তাদের দাবিগুলো এতই উচ্চাভিলাষী ছিল যে, যা তারা সরাসরি যুদ্ধের ময়দানেও অর্জন করতে সক্ষম হয়নি।

আলোচনা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মূলত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং ইরানের শান্তিপূ,র্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে দুই দেশে ছিল অনড়। এসব ক্ষেত্রে মার্কিন প্রতিনিধি দলের দেওয়া কঠিন শর্তগুলো মানতে অস্বীকৃতি জানায় তেহরান। আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তান ত্যাগ করেছেন। প্রস্থানকালে তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটন যথেষ্ট নমনীয়তা প্রদর্শন করলেও তেহরান কোনো শর্ত মানতে রাজি হয়নি।

জেডি ভ্যান্স সংবাদমাধ্যমকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের অবস্থানের সীমা বা রেড লাইনগুলো অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছিল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আপোষ করা সম্ভব আর কোন বিষয়গুলো নিয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না, তা তেহরানকে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, তাদের সক্ষমতা ইতিমধ্যে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেজন্য একটি দৃঢ় ও লিখিত অঙ্গীকার চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

অন্যদিকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংলাপ নিয়ে মুখ খুলেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই। এক বিবৃতিতে তিনি ওয়াশিংটনের দাবিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী ও অতিরিক্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বাগাই স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, যেকোনো আলোচনার সাফল্য নির্ভর করে ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থকে কতটুকু সম্মান জানানো হচ্ছে তার ওপর। দুই দেশের এমন বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে দীর্ঘ চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনতে পারেনি।