মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জাতীয় ও ক্লাব পর্যায়ের সব ধরণের ক্রীড়াদল বিদেশে পাঠানোয় অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইরান।
বৃহস্পতিবার দেশটির যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। বিশেষ করে ‘নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ’ ও ‘বৈরী’ হিসেবে বিবেচিত দেশগুলোতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানি অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণ স্থগিত থাকবে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেসব রাষ্ট্রে ইরানি খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, সেখানে কোনো প্রতিনিধি দল পাঠানো হবে না। সাম্প্রতিক সময়ে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইরানের ট্র্যাক্টর ক্লাবের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি ম্যাচ সৌদি আরবে আয়োজনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান। ইরান ফুটবল ফেডারেশনকে ইতোমধ্যে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনকে (এএফসি) ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়ে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরানকে কেন্দ্র করে যে আঞ্চলিক সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে, তার প্রভাব এখন দেশটির ক্রীড়াঙ্গনেও স্পষ্ট। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া এই আসরে ইরানের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ও সিয়াটলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বৈরী’ দেশ হিসেবে গণ্য করায় এখন মেক্সিকোতে ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার জন্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। যদিও ফিফা এখন পর্যন্ত পূর্বনির্ধারিত সূচি পরিবর্তনের কোনো ঘোষণা দেয়নি।
ক্রীড়াঙ্গনের এই অস্থিরতার মাঝে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের বিষয়টিও সামনে এসেছে। চলতি মাসে অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়ান কাপ চলাকালে ইরানের নারী ফুটবল দলের ছয়জন খেলোয়াড় ও একজন স্টাফ জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন। তেহরান এই ঘটনাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে আখ্যা দিলেও পরে পাঁচজন দেশে ফিরেছেন। তবে দুইজন এখনো অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন। এই ঘটনাটি ইরানি অ্যাথলেটদের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অবস্থানের বিষয়টি বিশ্বজুড়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।







