জ্বালানি সংকটের বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে বরিশালের আগৈলঝাড়ায়—মাত্র ৫ লিটার পেট্রোল সংগ্রহ করতে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জেনারেটর ভ্যানে তুলে ১৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়েছে, আর পুরো প্রক্রিয়ায় কেটে গেছে একটি দিন।
উপজেলার বাগধা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার মো. আনিচুর রহমান হাওলাদার জানান, লোডশেডিং চলাকালে রোগীদের সেবা অব্যাহত রাখতে তারা দীর্ঘদিন ধরে জেনারেটর ব্যবহার করে আসছেন। আগে স্থানীয় বাজার থেকেই সহজে জ্বালানি সংগ্রহ করা গেলেও সাম্প্রতিক সংকটে তা আর সম্ভব হচ্ছে না।
পেট্রোলের অভাবে গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) তিনি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও পেট্রোল পাম্পের ট্যাগ অফিসার অয়ন সাহার কাছে যান। এর আগে ওই কর্মকর্তা সরেজমিনে কেন্দ্রটি পরিদর্শন করে জেনারেটরসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে অফিসে আসার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
নির্দেশনা অনুযায়ী জেনারেটর ভ্যানে করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিয়ে গেলে অয়ন সাহা সিল-স্বাক্ষরযুক্ত একটি টোকেন দেন, যার মাধ্যমে ‘আগৈলঝাড়া পেট্রোল পাম্প’ থেকে ৫ লিটার পেট্রোল সংগ্রহের অনুমতি মেলে। তবে পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, তখন পেট্রোল নেই। দুপুর থেকে অপেক্ষা করে সন্ধ্যায় ৬৮০ টাকায় ৫ লিটার পেট্রোল কিনতে সক্ষম হন তারা।
এ সময় যাতায়াত ও দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে সাতলা গ্রামের ভ্যানচালক রহিম সরদারকে ভাড়া বাবদ ৫০০ টাকা দিতে হয়েছে।
এ বিষয়ে মো. আনিচুর রহমান হাওলাদার বলেন, পেট্রোল সংগ্রহের জন্য তাকে জেনারেটরসহ উপজেলা সদরে যেতে বলা হয় এবং ৫ লিটারের স্লিপ দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে আবার পেট্রোল নিতে হলে একইভাবে জেনারেটর নিয়ে যেতে হবে।
ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক ও ইউপি সদস্য শামীম মিয়া নিক্সন বলেন, বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে ৫ লিটার পেট্রোল সংগ্রহ করতেই ১৩ কিলোমিটার দূরে যেতে হচ্ছে এবং অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। এতে সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। তার প্রশ্ন, এভাবে চললে রোগীদের সেবা কীভাবে দেওয়া সম্ভব?
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও ট্যাগ অফিসার অয়ন সাহা জানান, পেট্রোল একটি দাহ্য পদার্থ হওয়ায় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী খোলা পাত্রে বহন করা যায় না। তাই জেনারেটরে জ্বালানি শেষ হয়েছে কিনা তা যাচাই করতে পুনরায় সেটিসহ উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।







