জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ নির্বাচনী এলাকা ভোলা-৩ (তজুমদ্দিন) আসনে প্রথমবারের মতো গণসংবর্ধনায় অংশ নিয়েছেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, স্পিকার পদের আলাদা কোনো ক্ষমতা না থাকলেও রয়েছে বিশাল সম্মান। আর আপনারা আমাকে নির্বাচিত করার মাধ্যমেই সেই মর্যাদাপূর্ণ স্থানে পৌঁছে দিয়েছেন। আমি যে পদেই থাকি না কেন, দিনশেষে আমি আপনাদেরই সংসদ সদস্য।
তজুমদ্দিনের এই বিশাল সংবর্ধনা সভায় স্পিকার আরও বলেন, আমরা কখনোই জনগণের আস্থার সংকটে পড়িনি। বিভিন্ন নেতিবাচক প্রচারণাকে উপেক্ষা করে আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে যে সম্মান দিয়েছেন, তা চিরস্মরণীয়। তিনি গত শাসনামলের সমালোচনা করে বলেন, এক সময় মাফিয়া চক্র রটিয়েছিল যে আমি নাকি মনোনয়নই পাবো না। কিন্তু এ দেশের আপামর জনতা সেই মাফিয়া সরকারকে হটিয়ে রাজনীতির পরিবেশকে কলঙ্কমুক্ত করেছে।
অতীতের গুম ও খুনের রাজনীতির কথা স্মরণ করে মেজর হাফিজ বলেন, আমরা একটি শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ চাই যেখানে কোনো স্বৈরাচারী পরিবেশ থাকবে না। নিজের রাজনৈতিক স্বচ্ছতা তুলে ধরে তিনি বলেন, যখন আমি পানিসম্পদ মন্ত্রী ছিলাম, তখন তজুমদ্দিন শহর রক্ষায় সিসি ব্লক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। আমরা কখনো লুটপাটের রাজনীতি করিনি; ঢাকা শহরে আমার নিজের কোনো বাড়ি নেই, আমি এখনো পৈতৃক ফ্ল্যাটেই বসবাস করি।
দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে এই প্রবীণ রাজনীতিক বলেন, আওয়ামী লীগ দেশে সীমাহীন অনিয়ম ও লুটপাট চালিয়েছে। আমরা যদি তাদের মতো কোনো অপকর্মে লিপ্ত হই, তবে সাধারণ মানুষ আমাদেরও তাদের কাতারে ফেলবে। তাই কোনোভাবেই মাফিয়া গোষ্ঠীর স্বভাব চরিত্র ধারণ করা যাবে না।
এর আগে স্পিকার উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সেখানে তিনি স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন দপ্তরের জনবল সংকট দ্রুত নিরসনের প্রতিশ্রুতি দেন। ওমর আসাদ রিন্টুর সঞ্চালনায় ও গোলাম মোস্তফা মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গণসংবর্ধনায় স্থানীয় বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হন নবনির্বাচিত স্পিকার।







