বিএনপির মনোনয়ন তালিকায় জায়গা পেলেন না জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। দলটির ঘোষিত নারী প্রার্থীদের তালিকায় এবারও বাদ পড়লেন তিনি।
সোমবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর নয়াপল্টন-এ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নারী প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তবে প্রকাশিত তালিকায় কনকচাঁপার নাম দেখা যায়নি।
কনকচাঁপা জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন (জাসাস)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং জেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে যুক্ত আছেন। এর আগেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন।
গত ১১ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ-১ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত সেই দৌড়েও থাকতে পারেননি তিনি।
এর আগে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন কনকচাঁপা। সে সময় তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিম। নির্বাচনী প্রচারণায় বাধার অভিযোগ তুলে তিনি বগুড়ায় সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন।
নিরাপত্তা চেয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেও সাড়া না পাওয়ায়, জীবননাশের আশঙ্কায় নিজ এলাকা ছেড়ে বগুড়ায় আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। ওই নির্বাচনে মোহাম্মদ নাসিম পেয়েছিলেন ৩ লাখ ২৪ হাজার ৪৩৬ ভোট, আর কনকচাঁপা পেয়েছিলেন ১ হাজার ৭২ ভোট।
১৯৬৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া কনকচাঁপা দেশের সংগীতাঙ্গনের এক সুপরিচিত নাম। প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে তার জনপ্রিয়তা দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছে। সাবিনা ইয়াসমিন ও রুনা লায়লা-এর পর চলচ্চিত্র সংগীতে তাকে অন্যতম শীর্ষ নারী কণ্ঠশিল্পী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে তিনি পরিচিতি পান। চার দশকেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি চলচ্চিত্রে ৩ হাজারের বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন এবং তার একক অ্যালবামের সংখ্যা ৩৫টি।
চলচ্চিত্র গানের পাশাপাশি আধুনিক গান, নজরুল সংগীত ও লোকগীতিতেও তিনি সমান দক্ষ। সংগীতে তার তালিম হয়েছে প্রখ্যাত শিল্পী বশীর আহমেদ-এর কাছে।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসামান্য অবদানের জন্য কনকচাঁপা বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তিনি তিনবার—১৯৯৫, ২০০১ ও ২০০৮ সালে—জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া ১৯৯৯ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর সেরা গায়িকা হিসেবে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার পেয়েছেন।







