মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে বজ্রপাতে প্রাণ হারানো যুবক আরাফাত খানের দাফন সম্পন্ন হলেও শান্তিতে নেই তার পরিবার।
কবরের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং লাশ চুরির আশঙ্কা থেকে প্রতিরাতে পালাক্রমে পাহারার ব্যবস্থা করেছেন নিহতের স্বজনরা। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার কামারখাড়া সামাজিক কবরস্থানে গিয়ে দেখা যায়, মৃত সন্তানের কবরের পাশে একাকী বসে আছেন বাবা জসিম খান।
উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতের কবলে পড়ে আরাফাত খান ও রিজান ঢালী নামে দুই কিশোরের মৃত্যু হয়। পেশায় দর্জি আরাফাত ছিলেন তার পরিবারের উপার্জনের প্রধান উৎস। স্থানীয় পর্যায়ে প্রচলিত রয়েছে যে, বজ্রপাতে মৃত ব্যক্তিদের মরদেহের ওপর অসাধু চক্রের নজর থাকে এবং কঙ্কাল বা লাশ চুরির ঘটনা ঘটে। মূলত এই লোকমুখের ভয় থেকেই শোকার্ত বাবা রাতভর সন্তানের কবরের পাহারায় নিয়োজিত থাকছেন।
জসিম খান আক্ষেপ করে জানান, তিনি শারীরিক অসুস্থতা ও চরম আর্থিক অনটনের মধ্যেও ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে লোক ভাড়া করে কবর পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। নিজের সংসার চালাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে সন্তানের অন্তিম শয়ান অক্ষত রাখতে প্রতিদিন তাকে বাড়তি ব্যয় করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থায়ী পাহারার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে তিনি চিন্তামুক্ত হতে পারতেন বলে জানান।
এ প্রসঙ্গে টঙ্গীবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া কবরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রহরীর ব্যবস্থা করার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। প্রশাসনের এই উদ্যোগের মাধ্যমে নিহতের পরিবারের উদ্বেগ দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।







