দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীর আয়কর সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই নির্দেশনা প্রদান করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন গণমাধ্যমকে আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামির ২০২৪-২৫ করবর্ষ পর্যন্ত জমা দেওয়া মূল আয়কর নথিসমূহ নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর। আদালত শুনানি শেষে দুদকের সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর-১ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ৫৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার ব্যাংক হিসাবে ২৩২ কোটি টাকারও বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়ার পর গত বছরের ২৫ মার্চ মামলাটি দায়ের করে দুদক।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, নূর-ই-আলম চৌধুরী ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা আটটি ব্যাংক হিসাবে ২৩২ কোটি ১১ লাখ ৮০ হাজার ২৪০ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য মিলেছে, যা মানিলন্ডারিংয়ের আওতায় পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, রাজধানীর উত্তরা, পূর্বাচল ও নিকুঞ্জ এলাকায় তার নামে থাকা জমি ও ভবনসহ ৪ কোটি ২৯ লাখ টাকার স্থাবর এবং ৪২ কোটি ৮১ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদের হদিস পাওয়া গেছে। এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।







