দেশের সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত ও গোপনীয় তথ্য অবৈধ উপায়ে সংগ্রহ করে অর্থের বিনিময়ে বিক্রির দায়ে এক দক্ষ প্রোগ্রামারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেপ্তারকৃত আরমান হোসেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী। সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার রাজধানীর মানিকদি এলাকা থেকে তাকে আটক করে।
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবর মাসে নিয়মিত অনলাইন নজরদারির সময় তারা ‘সিয়াম হাওলাদার’ নামের একটি ফেসবুক আইডির সন্ধান পায়। ওই আইডিতে নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের বিস্তারিত তথ্য, ব্যক্তিগত খুদেবার্তা, বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবের তথ্য এবং বিভিন্ন মামলার নথিপত্র বিক্রির বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রথমে লক্ষ্মীপুর থেকে সিয়াম হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তল্লাশিকালে তার ফোনে ‘সব এখানে’ নামক একটি বিতর্কিত অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ পাওয়া যায়, যা নাগরিকদের তথ্য হাতিয়ে নিতে ব্যবহৃত হতো।
সিয়ামকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গত ২৮ অক্টোবর খুলনার কয়রা থেকে এই চক্রের মূল সমন্বয়কারী আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আল আমিন স্বীকার করে যে, এই সম্পূর্ণ ডিজিটাল সিস্টেম এবং অ্যাপটি একজন দক্ষ প্রোগ্রামারের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। সেই তথ্যের সূত্র ধরে গত ৫ মে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন, ছয়টি সিমকার্ড ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত সিমের মধ্যে তিনটি বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টের বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরমান জানায়, সে আল আমিনের পরিকল্পনায় একাধিক ওয়েবসাইট ও ‘সব এখানে’ নামের অ্যাপটি তৈরি করেছিল। এই প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ডেটাবেজ থেকে তথ্য চুরি করে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করত চক্রটি। পেমেন্ট গেটওয়ে হিসেবে তারা বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করত।
বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃত আরমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং রাষ্ট্রীয় তথ্যভান্ডারের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সিআইডির নিবিড় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।







