সীমান্তে বেষ্টনী নির্মাণ করে কোনো রাষ্ট্রের সাথে প্রকৃত সুসম্পর্ক বজায় রাখা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান। ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে ‘শাপলা গণহত্যা; বিচারহীনতার এক যুগ’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বর্তমান সীমান্ত পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, সীমান্তে পুনরায় প্রাণহানি শুরু হয়েছে এবং নতুন করে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বাংলাদেশের নাগরিকদের হত্যা করে বন্ধুত্বের বুলি আওড়ানো অসারতা ছাড়া আর কিছু নয়। তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, কৃত্রিম বাধা দিয়ে সৌহার্দ্য তৈরি করা অসম্ভব এবং একদিন প্রতিবেশী দেশের সাধারণ মানুষই এসব প্রতিবন্ধকতা ছিন্ন করে বাংলাদেশের জনগণের সাথে ভ্রাতৃত্বের সেতুবন্ধন তৈরি করবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির এই নেতা সীমান্ত সুরক্ষায় সরকারের দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত রক্ষা করা বর্তমান প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। এই কাজে সরকার যদি অযোগ্যতার পরিচয় দেয়, তবে দেশের সাধারণ মানুষই নিজ দায়িত্ব বুঝে নেবে। বাংলাদেশের এক ইঞ্চি জমিও অসুরক্ষিত রাখা হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
একই সাথে তিনি অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য অধিকার আদায়ের বিষয়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। জনগণের দাবি আদায়ে সরকারকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার অনুরোধ করে তিনি বলেন, পানির হিস্যা নিশ্চিত করা জনগণের অধিকার এবং এটি রক্ষায় কোনো আপস করা চলবে না।
শাপলা চত্বরের ঘটনার স্মৃতিচারণ করে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন যে, দীর্ঘ এক যুগেও অতীতের সহিংসতার বিচার না হওয়ায় দেশে বারবার অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তিনি দাবি করেন, সে সময়কার সত্যকে ধামাচাপা দিতে অংশগ্রহণকারীদের অন্যায়ভাবে সন্ত্রাসী বা জঙ্গি হিসেবে তকমা দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছিল। সঠিক বিচারের মাধ্যমেই কেবল রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।







