খাগড়াছড়ির রামগড়ে অবৈধ বালু মহালের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার উপজেলার বলিপাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। আহতদের মধ্যে রয়েছেন রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম, রামগড় থানার ওসি মোহাম্মদ নাজির আলম, সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল ওহাব এবং বেশ কয়েকজন আনসার সদস্য ও ইউএনও অফিসের কর্মীরা। এছাড়া গ্রামবাসীর পক্ষ থেকেও কয়েকজনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযান চলাকালে কৃষি সেচের কাজে ব্যবহৃত তিনটি স্যালো মেশিন ভাঙচুর করায় তারা প্রতিবাদ করেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাবার বুলেট ছুড়লে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা তাদের ধাওয়া করে।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শামীম অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তিনি ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছিলেন। সেখানে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কৃষি জমি খনন করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। ভ্রাম্যমাণ আদালত কার্যক্রম শুরু করলে বালু উত্তোলনকারীদের সহায়তায় এক থেকে দেড়শ লোক লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় ইউএনও নিজে এবং অভিযান সংশ্লিষ্ট অনেকে গুরুতর জখম হন। এছাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে।
রামগড় থানার ওসি মোহাম্মদ নাজির আলম বলেন, ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১০ রাউন্ড শর্টগানের রাবার বুলেট ব্যবহার করেছে। ইউএনও আরও উল্লেখ করেন যে, স্যালো মেশিন ভাঙচুরের অভিযোগটি মূলত ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা। এই হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।







