পবিত্র ঈদুল আজহার বরকতময় দিনে যখন লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের সিংহভাগ দেশে উৎসবের আমেজ থাকার কথা, ঠিক তখনই চলমান যুদ্ধ ও চরম অস্থিতিশীলতার কারণে দেশটির নাগরিকদের আনন্দ অশ্রু আর বেদনায় রূপ নিয়েছে।
মঙ্গলবার দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় দখলদার ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর বর্বর বিমান হামলায় শিশুসহ কমপক্ষে ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা আরও তীব্র করার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই এই রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটল।
বুধবার ২৭ মে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনের বিবরণ অনুযায়ী, মঙ্গলবার লেবাননের বেশ কয়েকটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা, বেসামরিক অবকাঠামো এবং সীমান্ত সংলগ্ন জনপদে একযোগে স্মরণকালের ভয়াবহতম এই বোমাবর্ষণ সঙ্ঘটিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে এটিই লেবাননে ইসরাইলের অন্যতম বড় ও নৃশংস হামলা। তীব্র বিস্ফোরণে বহু বহুতল ভবন ধসে পড়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেক বাসিন্দা আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি, তারা কেবল হিজবুল্লাহর শতাধিক সামরিক স্থাপনা ও তাদের যোদ্ধাদের অবস্থান লক্ষ্য করে এই অভিযান পরিচালনা করেছে। আমেরিকার মধ্যস্থতায় গত অক্টোবর মাসে দুই পক্ষের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হওয়ার পর, এটিকে তাদের সবচেয়ে বড় ও বিস্তৃত সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে তেল আবিব।
এর আগে সোমবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হিজবুল্লাহর অবস্থানগুলোর ওপর আরও কঠোর ও আক্রমণাত্মক নীতি অনুসরণের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন। মঙ্গলবার নিজস্ব নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করেন যে, লেবাননের অভ্যন্তরে ইসরাইলি বাহিনীর চলমান সামরিক অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে।
নেতানিয়াহুর দাবি, ইসরাইলি সৈন্যরা লেবাননের স্থলভাগের গভীরে প্রবেশ করে বড় আকারের অভিযান চালাচ্ছে এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছে। মূলত উত্তর ইসরাইলের সীমান্ত এলাকার সাধারণ অধিবাসীদের হিজবুল্লাহর রকেট হামলা থেকে সুরক্ষাকবচ দিতেই এই বিশেষ নিরাপত্তা অঞ্চল তৈরি ও শক্তিশালী করা হচ্ছে বলে তিনি যুক্তি দেখান।
তবে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির শর্তাবলি বারবার লঙ্ঘিত হওয়ার এই প্রবণতায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন উত্তেজনার ফলে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে পর্দার আড়ালে চলমান অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনাগুলো বড় ধরনের অচলাবস্থার মুখে পড়তে পারে।
এই সংঘাতের রেশ ধরে একই দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার দক্ষিণ ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বিমান বাহিনী। পেন্টাগনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং পারস্য উপসাগরের সমুদ্রপথে মাইন পেতে রাখার কাজে নিয়োজিত বিশেষ নৌযানগুলোকে লক্ষ্য করে এই আকাশ ও নৌ হামলা চালানো হয়েছে।







