বরগুনা সদর উপজেলায় নিজের বসতবাড়িতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চার্জার খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক দম্পতির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ সময় বাবা-মাকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হয়েছে তাদের বড় মেয়ে আরিফা।
আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার ৭ নম্বর ঢলুয়া ইউনিয়নের ডালভাঙা গ্রামে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—ওই এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে মো. বেল্লাল এবং তাঁর স্ত্রী মোসা. কমলা বেগম।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বেল্লাল পেশাগত কাজের পাশাপাশি নিজের বাড়িতে একটি গরুর খামার নির্মাণ করছিলেন। খামারের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকায় চালের টিন কেনার উদ্দেশ্যে বাজারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। বাজারে যাওয়ার জন্য বাড়িতে চার্জে বসানো অটোরিকশার বৈদ্যুতিক প্লাগ ও সংযোগ খুলতে গেলে আকস্মিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন বেল্লাল। স্বামীকে ছটফট করতে দেখে উদ্ধার করতে এগিয়ে যান স্ত্রী কমলা বেগম, কিন্তু তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আটকে পড়েন। পরে মা-বাবাকে এই অবস্থায় দেখে বাঁচাতে গিয়ে তাদের বড় মেয়ে আরিফাও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হয়।
ঘটনাটি টের পেয়ে প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে এসে মূল লাইনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরে অজ্ঞান অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বেল্লাল ও কমলাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মেয়ে আরিফাকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে সে আশঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. অপূর্ব কুমার চৌধুরী জানান, সকালে বেল্লাল ও কমলা নামের দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাদের মৃত্যু হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।







