বরিশাল মহানগরীতে হাঁস-মুরগি ও ছাগল শিকারের অপরাধে সাতটি শেয়ালকে পিটিয়ে মেরে ফেলার পর সেগুলোর মাংস নেওয়ার জন্য ফেসবুকে প্রচারণার একটি ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
গত বৃহস্পতিবার নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত ময়দানখোলা এলাকায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। পরবর্তীতে মঙ্গলবার বিষয়টি চারদিকে জানাজানি হলে সংশ্লিষ্ট ভিডিওটি ফেসবুক থেকে অপসারণ করা হয়।
ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, মাটির ওপর পাঁচটি মৃত শেয়াল পড়ে রয়েছে এবং পাশে আরও দুটি শেয়ালের চামড়া ছাড়ানোর কাজ চলছে। ওই সময় হাতে লাঠি পরিহিত এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, লোকালয়ের হাঁস-মুরগি ও ছাগল খেয়ে ফেলায় শেয়ালগুলোকে মারা হয়েছে। কারও মাংসের প্রয়োজন থাকলে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ময়দানখোলা এলাকায় এসে তা নিয়ে যেতে পারেন।
এলাকাবাসীর দাবি, বেশ কিছুদিন ধরে ওই অঞ্চলে শেয়ালের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় গৃহপালিত পশুপাখির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছিল। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় কয়েকজন মিলে শেয়ালগুলো নিধনের সিদ্ধান্ত নেন। এছাড়া শেয়ালের মাংস ভক্ষণ করলে বিভিন্ন রোগব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়—এমন অন্ধবিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে কেউ কেউ সেই মাংস সংগ্রহ করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জনের একটি দল সমবেত হয়ে বনাঞ্চলের ভেতরে শেয়ালের আস্তানায় চড়াও হয়। মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে বন্যপ্রাণীগুলো পালানোর চেষ্টা করলে লাঠিসোটা দিয়ে আঘাত করে সাতটি শেয়ালকে হত্যা করা হয়। এরপর কয়েকটি শেয়াল স্থানীয় বাজারে নিয়ে কেটে মাংস ভাগ করে নেওয়া হয় এবং অবশিষ্টাংশ ও চামড়া মাটির নিচে পুঁতে ফেলা হয়।
সংশ্লিষ্ট ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর মো. ফরিদ উদ্দিন হাওলাদার জানান, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন, তবে এর পেছনে সুনির্দিষ্টভাবে কারা জড়িত তা নিশ্চিত করতে পারেননি।
এই প্রসঙ্গে বরিশালের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, বন্যপ্রাণী হত্যার বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং ইতিমধ্যেই তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







