কুমিল্লার চান্দিনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি পণ্যবাহী লরি চলন্ত সিএনজি চালিত অটোরিকশাকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা একটি পুকুরে পড়ে গেছে। এই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অটোরিকশার চালকসহ দুইজনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
বুধবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা উপজেলার অন্তর্গত নূরীতলা এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মৃত্যু হয়।
নিহতদের মধ্যে একজন হলেন অটোরিকশার চালক হানিফ মিয়া, যার বয়স পঁয়ত্রিশ বছর এবং তিনি বুড়িচং উপজেলার নিমসার পাঁচকিত্তা গ্রামের আব্দুল মান্নানের সন্তান। অন্যজন দেবিদ্বার উপজেলার দাঁড়িয়েপুর গ্রামের মনির হোসেনের পনেরো বছর বয়সী ছেলে লাবিব হোসেন। এই ঘটনায় আহত চব্বিশ বছর বয়সী সজীব হোসেন একই গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে এবং তিনি নিহত লাবিবের মামাতো ভাই বলে জানা গেছে।
হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার বৃষ্টির সময়ে মাধাইয়া থেকে যাত্রী নিয়ে অটোরিকশাটি নূরীতলা এলাকায় পৌঁছালে চট্টগ্রাম অভিমুখে যাওয়া একটি লরি সেটিকে পেছন থেকে আঘাত করে। এতে ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে যাওয়া অটোরিকশা এবং লরিটি একসাথে মহাসড়কের পাশে থাকা একটি পুকুরের পানিতে তলিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই আশেপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে পানির নিচে আটকে থাকা চালক ও আরোহীদের উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় তাৎক্ষণিকভাবে কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক চালক হানিফ মিয়া ও যাত্রী লাবিব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন সিকদার জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই স্থানীয় জনসাধারণের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিহতদের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পুলিশ প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করছে।







