- সারাদেশ
- চুরির অভিযোগে নফল নামাজ ও তওবা করে মুক্তি, কয়েক ঘণ্টা পর মাদকসহ আটক
-
চুরির অভিযোগে নফল নামাজ ও তওবা করে মুক্তি, কয়েক ঘণ্টা পর মাদকসহ আটক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশকাল: ১৯ জুলাই ২০২৬, ১২:২৬ পি.এম
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মুঠোফোন ও নারীদের ব্যাগ ছিনতাইয়ের অপরাধে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়া এক যুবককে একশত রাকাত নফল নামাজ আদায় ও অনুশোচনার মাধ্যমে ক্ষমা করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে এই সংশোধনের সুযোগ পাওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই মাদক সেবন ও কেনাবেচার অপরাধে তাকে পুনরায় গ্রেফতার করেছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা।
গত শুক্রবার বিকেলে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের অন্তর্গত ফকির আস্তানা এলাকায় প্রথম ঘটনাটি ঘটে। পরবর্তীতে একই দিন রাতে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ মো. করিম নামের ওই যুবককে আটক করে। তিনি স্থানীয় জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের প্রয়াত জয়নাল আবেদীনের পুত্র।
আয়োজক ও প্রত্যক্ষদর্শী গ্রামবাসীদের সূত্রে জানা যায়, মুঠোফোন ও একটি নারীদের ব্যাগ চুরির অপরাধে প্রথমে করিমকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছিল। সে সময় তার পারিবারিক ও ব্যক্তিগত অসহায়ত্বের কথা বিবেচনা করে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সোপর্দ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভবিষ্যতে আর কখনো কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হবেন না—এমন শর্তে এবং শাস্তিস্বরূপ তাকে একশত রাকাত নফল নামাজ পড়ার ও তওবা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশানুযায়ী ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করার পর স্থানীয়রা তাকে মুক্তি দেন।
কিন্তু এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাতের দিকে মাদক সেবন ও বিক্রির সাথে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ করিমকে গ্রেফতার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
এই বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ইকবাল হোসেন জানান, ভালো পথে ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এবং নামাজ আদায় করে তওবা করার পরই করিমকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, সেই রাতেই তিনি মাদক মামলায় পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। তিনি মন্তব্য করেন, মানুষের নিজস্ব চিন্তাভাবনার পরিবর্তন না হলে সামাজিকভাবে কাউকে জোর করে সংশোধন করা অত্যন্ত দুরূহ।
তৌহিদুল আনোয়ার নামের অপর এক স্থানীয় যুবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, করিমের দুরবস্থা দেখে তাকে জীবন সুধরে নেওয়ার শেষ একটা সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি পুনরায় অপরাধের পথ বেছে নিয়ে আইনি বেড়াজালে আটকে গেলেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল হালিম সংবাদমাধ্যমকে জানান, চুরির অভিযোগে স্থানীয় জনতা ওই যুবককে আটকে রেখে একশত রাকাত নফল নামাজ পড়িয়ে ও তওবা করিয়ে ছেড়ে দিয়েছিল বলে তারা জানতে পেরেছেন। তবে এর কিছু সময় পরেই রাতে মাদকসংক্রান্ত অপরাধে যুক্ত থাকার কারণে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।