আর্কাইভ
ads
logo

চট্টগ্রামে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শিশুকে খুন, যুবককে মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশকাল: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৮:২২ পি.এম
চট্টগ্রামে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শিশুকে খুন, যুবককে মৃত্যুদণ্ড

ছবি : সংগৃহীত

ads
চট্টগ্রামে তিন বছর আগের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের অপরাধে রুবেল নামের একমাত্র আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক সাইফুর রহমান চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন

আদালতের কার্যক্রম চলাকালে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এজলাসে উপস্থিত ছিলেন। রায় পাঠ শেষে বিচারিক আদেশে তাকে সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ সংবাদমাধ্যমকে জানান, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ২৪ জন প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণ বিবেচনা করা হয়েছে। এতে প্রমাণিত হয়েছে যে, শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পরই তাকে হত্যা করা হয়। অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। এর পাশাপাশি ভিন্ন আরেকটি ধারায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর এক ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডসহ ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

আদালতের নথি ও মামলা বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ মার্চ বিকেলে ওই শিশুটি আকস্মিকভাবে নিখোঁজ হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পরও কোনো সন্ধান না পেয়ে ঘটনার এক সপ্তাহ পর, অর্থাৎ ২৮ মার্চ ভুক্তভোগী শিশুর মা আদালতে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করার জন্য পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

মামলায় প্রতিবেশী সবজি বিক্রেতা ৩৫ বছর বয়সী রুবেলকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে পিবিআই তাকে গ্রেপ্তার করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে শিশুটির মরদেহের সন্ধান মেলে। আসামির দেওয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজের ৯ দিন পর স্থানীয় একটি মুরগির খামার সংলগ্ন ডোবা থেকে শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের ব্যবহৃত পোশাক, জুতো ও হিজাব আলামত হিসেবে জব্দ করে পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারের পর রুবেল ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। তদন্ত কার্যক্রম শেষে পুলিশ প্রশাসন রুবেলের বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাকাণ্ড ও প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ এনে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। আদালত সেই অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করেন।

বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সাক্ষ্য গ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার পর গত ৮ জুলাই আসামিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের আইনগত সুযোগ দেওয়া হয়। এরপর ১৪ জুলাই উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষ হলে আদালত রায়ের জন্য ২০ জুলাই দিন নির্ধারণ করেন। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার আদালত এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।
ads

এই বিভাগের আরও খবর

ads
ads
manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ