- খেলাধুলা
- ফাইনালে হারের পর প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন মেসি
-
ফাইনালে হারের পর প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন মেসি
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশকাল: ২১ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৮ পি.এম
বিশ্বকাপের খেতাব নির্ধারণী লড়াইয়ে স্পেনের নিকট পরাজয়ের পর এখনো গ্লানি তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে লিওনেল মেসিকে। রবিবারের ফাইনালের ধাক্কা সামলে সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ চিঠি প্রকাশ করেছেন এই ফুটবল তারকা।
নিজ বার্তায় পরাজয়ের যন্ত্রণা ব্যক্ত করার পাশাপাশি পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে সমর্থক ও সহযোদ্ধাদের অবদানের স্বীকৃতি দেন এবং বিজয়ী দল স্পেনকে শুভেচ্ছা জানান।
নিজের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে স্প্যানিশ ভাষায় এই আবেগঘন বিবৃতিটি প্রকাশ করেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। বার্তাটির মর্মার্থ হলো, ট্রফি হাতছাড়ার বেদনাবোধ অত্যন্ত তীব্র এবং এই মানসিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে সময়ের প্রয়োজন। তবে প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি সুন্দর অভিজ্ঞতাগুলোকে আগলে রাখতে চান। দলের সদস্যরা যেভাবে নিজেদের সবটুকু উজাড় করে মাঠে লড়াই করেছেন, তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। কোটি মানুষের সমর্থন এবং পুরো দলের আত্মত্যাগের বলেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বের অন্যতম সেরা দল হিসেবে মেগা টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে অর্জনের ব্যাপ্তি পুরোপুরি পরিমাপ করা কঠিন হলেও পরপর দুটি বৈশ্বিক আসরের ফাইনালে খেলার কৃতিত্ব ছোট নয়। একই সাথে শুভানুধ্যায়ীদের সমর্থন ও ভালোবাসার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি বিশ্বজয়ী স্পেন ফুটবল দলকে অভিনন্দন জানান মেসি।
মেসির এই বার্তাটি আবেগপূর্ণ হলেও মেগা ফাইনাল পরবর্তী সময়ে দুই শিবিরের সম্পর্ক সুখকর ছিল না। নির্ধারিত সময়ের লড়াইয়ে ১-০ ব্যবধানে স্পেনের জয়ের পর মাঠের মধ্যে দুই দলের খেলোয়াড়দের বিবাদে জড়াতে দেখা যায়। উক্ত ঘটনায় মেসির কোনো সম্পৃক্ততা না থাকলেও পুরো বিশৃঙ্খলা খতিয়ে দেখতে তদন্ত প্রক্রিয়ার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
ধারণা করা হচ্ছে, এই ম্যাচের মাধ্যমেই বিশ্বমঞ্চে নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন এই কিংবদন্তি। যদিও পরবর্তী আসরের যৌথ আয়োজক হিসেবে থাকছে আর্জেন্টিনা, তবে ততদিনে মেসির বয়স তেতাল্লিশ ছুঁইছুঁই হবে। বাস্তবতার নিরিখে ওই বয়সে সর্বোচ্চ পর্যায়ে মাঠে নামা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
ম্যাচ শেষে রানার্সআপের সম্মাননা গ্রহণের সময় অশ্রুসিক্ত চোখে মেসির মাঠ ত্যাগের দৃশ্যই ইঙ্গিত দেয়, বৈশ্বিক এই প্রতিযোগিতায় এটিই হয়তো ছিল তার শেষ পথচলা।
বয়সের ভার থাকলেও চলতি টুর্নামেন্টে নিজের সেরা খেলাটিই উপহার দিয়েছেন এই তারকা। একের পর এক রেকর্ড ভাঙার পাশাপাশি সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়েও সামনের সারিতে ছিলেন তিনি। মূলত প্রতিযোগিতার অন্তিম মুহূর্তগুলোতে তার ব্যক্তিগত নৈপুণ্য না থাকলে ফাইনালের বহুদূর আগেই বিদায় নিতে হতো বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।
এতসব ব্যক্তিগত সাফল্যের পরও টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল আলবিসেলেস্তেদের। সেই না পাওয়ার হাহাকারই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে আলবিসেলেস্তে অধিনায়কের সাম্প্রতিক বার্তায়।