আর্কাইভ
ads
logo

জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা রেটিং সিস্টেম চালু হতে চলেছে

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশকাল: ৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:০১ পি.এম
জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা রেটিং সিস্টেম চালু হতে চলেছে

ছবি : সংগৃহীত

ads
দেশের প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তি, তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং সাইবার সুরক্ষার মান বিচারে প্রথমবারের মতো একটি সর্বজনীন স্কোর প্রদান করতে একটি জাতীয় রেটিং ব্যবস্থা বা এনআরএস চালু করতে চলেছে বাংলাদেশ

‘জাতীয় আইসিটি ও সাইবার নিরাপত্তা পরিপক্কতা রেটিং’ শীর্ষক চার ধাপের একটি বিশেষ কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত রূপান্তর হতে থাকা ডিজিটাল পরিবেশে ক্রমবর্ধমান সাইবার আক্রমণ, প্রতারণা ও আর্থিক চুরির ঝুঁকি সামলাতে প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতিলব্ধ মানদণ্ড হিসেবে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, আইসিটি বিভাগে নতুন এই ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন এই ব্যবস্থার প্রথম ধাপে রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি ও তথ্য সুরক্ষা পরিচালনা, যার মান নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ শতাংশ। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব, নীতিমালা, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা যাচাই করা হবে।

দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে পরিকাঠামো ও পরিচালনা, যা মোট হিসাবের ৩০ শতাংশ বহন করে। এই ধাপে তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো, তথ্য সংরক্ষণ কেন্দ্র বা ডেটা সেন্টার, নেটওয়ার্ক, সার্ভার, বিকল্প ব্যাকআপ, আকস্মিক বিপর্যয় মোকাবিলার ব্যবস্থা এবং পরিবর্তন প্রক্রিয়া নিরীক্ষা করা হবে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তৃতীয় ধাপে সাইবার সুরক্ষা ও ডেটা সুরক্ষার বিষয় যুক্ত রাখা হয়েছে, যার ভারও ৩০ শতাংশ। এই আওতায় সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ, ডেটা রক্ষা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, তাৎক্ষণিক দুর্ঘটনা সামলানো, দুর্বলতা নিরসন এবং নিয়মিত নিরীক্ষা বজায় রাখার বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হবে।

অবশিষ্ট ২০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে ডিজিটাল সেবা এবং ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে। এটি মূলত ডিজিটাল সেবার মান, সেবার সহজলভ্যতা, সফটওয়্যার পরিচালনা ও ধারাবাহিক অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।

চারটি মূল ধাপের অধীনে থাকা ১৩১টি ভিন্ন মানদণ্ডকে পাঁচ ধাপে মূল্যায়ন করা হবে, যেখানে শূন্য থেকে চার পর্যন্ত নম্বর প্রদানের সুযোগ থাকবে। শূন্য দিয়ে অপরিকল্পিত বা অকার্যকর বোঝানো হবে এবং চার নির্দেশ করবে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন বা সর্বোচ্চ মান। মাঝের ধাপগুলোতে পর্যায়ক্রমে প্রারম্ভিক, আংশিক ও বিস্তৃত বাস্তবায়নের বিষয়গুলো বিবেচনা করা হবে।

পরবর্তীতে নির্দিষ্ট গুরুত্ব অনুযায়ী নম্বর যুক্ত করে ১০০ নম্বরের একটি সূচক তৈরি হবে, যা সর্বোচ্চ ‘এ’ থেকে সর্বনিম্ন ‘ই’ গ্রেডে বিভক্ত করা হবে।

সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা জানান, আন্তর্জাতিক মানের সাথে সংগতি রেখে এই সূচকগুলো তৈরি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে যেকোনো প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাইবার সক্ষমতা এক নজরে যাচাই করা যাবে।

আইসিটি দপ্তরের এক কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, সাইবার হামলা, তথ্য চুরি কিংবা সেবা ব্যাহত হওয়ার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জাতীয় সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা মাপার মতো কোনো সমন্বিত ব্যবস্থা এতদিন ছিল না। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রযুক্তি, জনবল ও কাঠামোগত পার্থক্যের কারণে তাদের সক্ষমতা তুলনা করা বা দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছিল।

সরকারি মহল ধারণা করছে, এই পরিমাপক কাঠামোর মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত হবে, যা বাজেট ও জনবল পরিকল্পনা এবং আইটি অডিটের অগ্রাধিকার ঠিক করতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি প্রতি বছর সরকারি ও বেসরকারি খাতের একটি বাৎসরিক অবস্থান তালিকা তৈরির মাধ্যমে জাতীয় সক্ষমতার প্রকৃত চিত্র উন্মোচিত হবে।

ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থার সাথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়ন, নথিপত্র যাচাই, বিভিন্ন খাতের তুলনামূলক তথ্য বিশ্লেষণ এবং ঝুঁকিভিত্তিক পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্রমবর্ধমান সুরক্ষার অভাব থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সাড় ১৩ কোটির বেশি।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে বিশাল অঙ্কের অর্থ চুরির ঘটনা ঘটেছিল। পরবর্তীতে ২০২৩ সালেও জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ওয়েবসাইট থেকে কোটি কোটি মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনা ঘটে, যা সুরক্ষার বিষয়টি নতুন করে সামনে নিয়ে আসে।
ads

এই বিভাগের আরও খবর

ads
ads
manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ