শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

আফগানিস্তানে মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ২৪ লাখ কিশোরী: ইউনেস্কো

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, আফগানিস্তানে বর্তমানে প্রায় ২৪ লাখ কিশোরী মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত রয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার বরাতে জানা যায়, সংস্থাটি তালেবান প্রশাসনের প্রতি অবিলম্বে নারী শিক্ষার ওপর থেকে সমস্ত বাধা অপসারণের জোর তাগিদ পুনর্ব্যক্ত করেছে।

আফগানিস্তানে মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ২৪ লাখ কিশোরী: ইউনেস্কো

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, আফগানিস্তানে বর্তমানে প্রায় ২৪ লাখ কিশোরী মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত রয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার বরাতে জানা যায়, সংস্থাটি তালেবান প্রশাসনের প্রতি অবিলম্বে নারী শিক্ষার ওপর থেকে সমস্ত বাধা অপসারণের জোর তাগিদ পুনর্ব্যক্ত করেছে।


সংস্থাটির পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে, বিগত বছরের তুলনায় বর্তমানে মাধ্যমিক বঞ্চিত নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা নতুন করে প্রায় দুই লাখ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান ধারা বজায় থাকলে ২০৩০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ স্পর্শ করতে পারে। বর্তমান বিশ্বে আফগানিস্তানই একমাত্র রাষ্ট্র যেখানে নারীদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পুরোপুরি রুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। নারীদের সার্বিক চলাচলের ওপর এমন কঠোর বিধিনিষেধের কারণে জাতিসংঘ এই বাস্তবতাকে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

দুই দশকের সামরিক উপস্থিতি শেষে মার্কিন বাহিনী চলে যাওয়ার পর ক্ষমতা পুনর্দখল করে তালেবান। এরপর ২০২২ সালের মার্চ মাসে প্রথম দফায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে মেয়েদের প্রবেশ বন্ধ করা হয় এবং একই বছরের শেষভাগে তাদের জন্য উচ্চশিক্ষার দ্বারও রুদ্ধ করা হয়। শুধু ছাত্রীদের ক্ষেত্রেই নয়, পুরুষ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানে নারী শিক্ষকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় দক্ষ শিক্ষকের প্রকট সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে সংস্থাটি। ইউনেস্কোর ধারণা অনুযায়ী, চলতি দশকের শেষ নাগাদ দেশটিতে অন্তত ১১ হাজার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী শিক্ষকের অভাব তৈরি হতে পারে।

শুধুমাত্র নিষেধাজ্ঞাই নয়, দেশটির সামগ্রিক শিক্ষা কাঠামো ও অর্থনৈতিক সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অবকাঠামোগত ঘাটতি, উপচে পড়া শিক্ষার্থী এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা পরিবেশ। অর্ধেকের কাছাকাছি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানীয় জল, স্যানিটেশন কিংবা শীতকালীন ব্যবস্থার অভাব রয়েছে। তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে আরও প্রায় এক হাজার বিদ্যালয় চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে।

মাধ্যমিক স্তরে নিষেধাজ্ঞার বাইরে প্রাথমিক স্তরেও পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক। ২০ লাখের বেশি শিশু প্রাথমিক শিক্ষার বাইরে রয়ে গেছে। বর্তমানে ১০ বছর বয়সী শিশুদের ৯০ শতাংশই প্রাথমিক বর্ণমালা বা সাধারণ লেখা পড়তে সক্ষম নয়, যা দেশের সার্বিক সাক্ষরতার হারকে মাত্র ৩৭ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। বিশ্বব্যাপী এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশের পক্ষ থেকে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের তাগিদ দেওয়া হলেও এটি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে দাবি করে আন্তর্জাতিক অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে আসছে তালেবান প্রশাসন।