ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় পানামার পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে প্রজেক্টাইলের আঘাতে ১১ ভারতীয়সহ অন্তত ১২ জন নাবিক আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার হামলার শিকার হওয়া ‘এমটি অন পিস’ নামের জাহাজটিতে মোট ১৯ জন নাবিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৭ জন ভারতীয়। হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় পানামার পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমটি অন পিস’-এ প্রজেক্টাইলের আঘাত হানার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি আমরা।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “মোট ১৯ জন নাবিকের মধ্যে ১৭ জন ভারতীয়। হামলায় ১২ জন আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ১১ জনই ভারতীয় বলে জানা গেছে।”
এ অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে একের পর এক হামলাকে ভারতের জন্য ‘গভীর উদ্বেগের কারণ’ হিসেবে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক জলসীমায় শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে এসব হামলা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “বাণিজ্যিক জাহাজ, সমুদ্রগামী নাবিক ও বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নৌপথে জাহাজ চলাচল ও বাণিজ্য দ্রুত স্বাভাবিক করা প্রয়োজন।”
হামলার পর ওমান কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় আহত নাবিকদের জাহাজ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁদের ওমানের খাসাব শহরে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “ওমান কর্তৃপক্ষের সহায়তায় আহত নাবিকদের উদ্ধার করে ওমানের খাসাব শহরে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এই দরকারি সময়ে মূল্যবান সহযোগিতার জন্য আমরা ওমান সরকার ও কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।”
অক্টোবরের শুরু থেকেই হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়েছে। এরই মধ্যে সাতটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার এক দিনেই দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা হয়।
এর একটি ছিল কুয়েতের পতাকাবাহী ‘এমটি কাজিমা থ্রি’ এবং অন্যটি লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘লিপসি’। কুয়েতের পতাকাবাহী জাহাজটিতে পাঁচ ভারতীয় নাবিক ছিলেন। হামলার পর তাঁদের উদ্ধার করে ওমান প্রশাসন।
এর আগেও হরমুজ প্রণালিতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় কয়েকজন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় বারবার উদ্বেগ জানিয়েছে নয়াদিল্লি। তবে এর পরও হামলা অব্যাহত রয়েছে। এসব ঘটনায় কখনো ভারতীয় নাবিকেরা আহত হয়েছেন, আবার কোনো কোনো ঘটনায় প্রাণহানিও ঘটেছে।