ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। প্রতি কেজি এলপিজির দাম ২১ টাকা বাড়িয়ে ১৫৩ টাকা ৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা হয়েছে।
রোববার নতুন এ দাম ঘোষণা করেছে বিইআরসি। সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে। এর আগে গত মাসে প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১৩ টাকা কমানো হয়েছিল। তখন ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।
তবে বিইআরসির নির্ধারিত দামে বাজারে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। গত তিন সপ্তাহ ধরে চাহিদার তুলনায় এলপিজির সরবরাহ কম থাকায় ১২ কেজির সিলিন্ডার কোথাও কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম বেড়ে যায়। পরে যুদ্ধবিরতি শুরু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম কমতে থাকে। তবে গত দুই মাস ধরে দাম ওঠানামার মধ্যে ছিল। চলতি মাসে আবারও এলপিজির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
এর আগে গত এপ্রিলেও দেশে এলপিজির দাম বড় ধরনের বাড়ানো হয়েছিল। এপ্রিলের শুরুতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়ানো হয়। পরে ১৯ এপ্রিল আরও ২১২ টাকা বাড়ানো হয়। তবে জুন ও জুলাইয়ে টানা দুই মাস এলপিজির দাম কমানো হয়েছিল।
বিইআরসি জানিয়েছে, বাজারে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যায়। প্রতি কেজির নতুন দাম ১৫৩ টাকা ৬ পয়সা হিসেবে এসব সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হবে। আগে প্রতি কেজি এলপিজির দাম ছিল ১৩২ টাকা ১২ পয়সা।
সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে যানবাহনে ব্যবহৃত এলপিজি বা অটো গ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে এর দাম ছিল ৭৩ টাকা ৯ পয়সা।
এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডার গৃহস্থালির কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। গ্যাসের সংকটের কারণে অনেকেই রান্নার জন্য এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করছেন। এর মধ্যে বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ থাকায় নতুন করে দাম বাড়ায় ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে।
২০২১ সালের এপ্রিল থেকে দেশে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। এলপিজি তৈরির প্রধান উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো প্রতি মাসে এসব উপাদানের দাম প্রকাশ করে। এই দামকে সৌদি কার্গো মূল্য বা সিপি বলা হয়।
সৌদি সিপিকে ভিত্তি ধরে দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি। এ ক্ষেত্রে আমদানিকারক কোম্পানির চালান বা ইনভয়েসের মূল্য থেকে গড় করে পুরো মাসের জন্য ডলারের দাম হিসাব করা হয়।