রাশিয়ার সঙ্গে সীমান্তবর্তী উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় ১৫০টি বাংকার নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে ইউরোপের বাল্টিক অঞ্চলের দেশ এস্তোনিয়া। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে এ উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। পাশাপাশি রাশিয়ার সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত একটি সেনা ব্রিগেড মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্টিন হেরেম জানান, দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইদা-ভিরুমা এলাকায় এসব বাংকার নির্মাণ করা হবে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পরিকল্পিত ১৫০টি বাংকারের মধ্যে প্রায় ১০০টি নির্মিত হবে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জমিতে। বাকি ৫০টি তৈরি করা হবে ব্যক্তিমালিকানাধীন ও পৌরসভার জমিতে।
তবে বাংকারগুলোর নির্মাণশৈলী কেমন হবে কিংবা সেগুলো কী ধরনের সামরিক কাজে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
এদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় এস্তোনিয়াসহ প্রতিবেশী বাল্টিক দেশগুলো সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায়ও গুরুত্ব দিচ্ছে। ন্যাটো কর্মকর্তারা রাশিয়ার ড্রোনের অনুপ্রবেশ, আকাশসীমা লঙ্ঘন, নাশকতা এবং বিভিন্ন ধরনের হাইব্রিড হুমকি নিয়ে সতর্ক করে আসছেন। এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপের একাধিক দেশ নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর ন্যাটো তাদের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক হুমকি মোকাবিলায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রস্তুতিও বাড়ানো হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে এস্তোনিয়ার সামরিক বাহিনী জানায়, যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত একটি ব্রিগেডকে স্থায়ীভাবে রাশিয়ার সীমান্তের কাছাকাছি সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশটির প্রথম ব্রিগেডকে সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে অবস্থিত সম্প্রসারিত একটি নতুন সামরিক ঘাঁটিতে স্থানান্তর করা হবে।
এস্তোনিয়ার সামরিক বাহিনীর ভাষ্য, সম্ভাব্য রুশ হামলার জবাব দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংকার নির্মাণ এবং সেনা ব্রিগেড স্থানান্তরের পরিকল্পনা বাল্টিক অঞ্চলে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে এ অঞ্চলের দেশগুলো।