ভারতে আগামী ৩০ বছরেও কংগ্রেস ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহ। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, নির্বাচনে পরাজয়ের অজুহাত হিসেবেই ভোট চুরির অভিযোগ তুলছে কংগ্রেস।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নিজের ৬২তম জন্মদিনে দিল্লিতে যমুনা নদী পরিষ্কারের জন্য ৮ হাজার ৯৪১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন অমিত শাহ।
তিনি অভিযোগ করেন, অনুপ্রবেশকারীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে চান রাহুল গান্ধী ও তাঁর দল। এ কারণেই ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে কংগ্রেসের এত আপত্তি।
এসআইআর বাতিল এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ আন্দোলনে নেমেছে। গত ১৩ অক্টোবর রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে দিল্লিতে মিছিলও করে জোটটি। একই সময়ে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনও কেন্দ্রীয় সরকারকে চাপে রেখেছিল। তবে হিন্দু ধর্মীয় উৎসবের কারণে আন্দোলনের গতি কমে যায়।
সম্প্রতি একটি ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে বিজেপি দাবি করে, চার দিনের সফরে ভিয়েতনাম যাচ্ছেন রাহুল গান্ধী। এ প্রসঙ্গ টেনে বৃহস্পতিবার অমিত শাহ বলেন, ‘আমি জানি, আমার কথা আপনি এখন শুনতে পাবেন না। কারণ, আপনি বিদেশের কোথাও বসে আছেন। এসব বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যাও কখনো দেন না। সেটা আপনার ব্যক্তিগত বিষয়। তবে দিল্লিতে ফেরার পর আমার কথা শুনে রাখুন। আগামী ৩০ বছরেও আপনি ক্ষমতায় আসতে পারবেন না।’
ভোট চুরির অভিযোগের বিষয়ে অমিত শাহ বলেন, বিজেপি ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনে জয় পাচ্ছে। এতে বিরোধীরা অসন্তুষ্ট হয়ে ভোট চুরির অভিযোগকে অজুহাত হিসেবে সামনে আনছে।
রাহুল গান্ধীকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘রাহুলজি, আপনি শুধু ভোট চুরির কথা বলেন। কারণ, আপনি অনুপ্রবেশকারীদের ভোটাধিকার দিতে চান। তাদের ভোটগুলোকে আগলে রাখতে চান।’
বিজেপি আরও ৩০ বছর ক্ষমতায় থাকবে বলে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, এমন কথা বললেই বিরোধীরা ভোট চুরির অভিযোগ তোলে। তারা প্রশ্ন করে, নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে তিনি কীভাবে আগেই ধারণা পান।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি ভারতেই জন্মেছেন, দেশেই থাকেন এবং দেশেই মৃত্যুবরণ করবেন। প্রতি ছয় মাস পরপর তাঁকে বিদেশে যেতে হয় না; বরং তিনি দেশের মানুষের মধ্যেই বসবাস করেন।
বিরোধীদের আন্দোলনকে কটাক্ষ করে অমিত শাহ বলেন, রাজনৈতিক কৌশল প্রয়োগ কিংবা জনরোষ সৃষ্টি করে মানুষের রায় পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। শুধু আন্দোলন বা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে নির্বাচনে জয়ী হওয়া যায় না।