বৃহস্পতিবার, 5 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে: গোলাম পরওয়ার

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর অভিযোগ, দেশে হত্যা, সহিংসতা, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ও রাজনৈতিক সংঘাত ক্রমেই বাড়ছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে: গোলাম পরওয়ার

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর অভিযোগ, দেশে হত্যা, সহিংসতা, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ও রাজনৈতিক সংঘাত ক্রমেই বাড়ছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ১১ দলীয় ঐক্যের তৃতীয় দফার লংমার্চের প্রস্তুতি ও কর্মসূচি সম্পর্কে জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে হত্যা, সহিংসতা, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও রাজনৈতিক সংঘাত বেড়েই চলেছে। সরকারি দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরেও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, অবৈধ নিয়োগ, ডিলারশিপ-বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের ঘটনা ঘটছে। হাটবাজার, ঘাট, বালুমহাল, পরিবহন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতে চাঁদাবাজি অব্যাহত রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, চাঁদাবাজির ধরনে পরিবর্তন আসেনি, শুধু চাঁদাবাজদের পরিচয় ও দলের নাম বদলেছে।

সংবাদ সম্মেলনে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়েও কথা বলেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, একই দিনে অনুষ্ঠিত দুটি ভোটের একটির ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে অন্যটির গণরায় অস্বীকার করা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসভঙ্গের শামিল। সরকার আন্তরিক হলে আগামী ৯ নভেম্বরের সংসদ অধিবেশনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে বিরোধী দলের সহযোগিতায় এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারসংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য তৃতীয় দফার লংমার্চ কর্মসূচি পালন করবে।

তিনি বলেন, জনগণের সাত দফা দাবি আদায় এবং সরকারের ব্যর্থতা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রতিবাদে আগামীকাল ৩১ অক্টোবর এ লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা থেকে খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত প্রায় ৪১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেবে লংমার্চের বহর। আগের দুটি কর্মসূচির তুলনায় এবারের লংমার্চ সবচেয়ে দীর্ঘ হবে।

তিনি আরও জানান, আগামীকাল সকাল ৭টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সকাল ৮টায় ছয় শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে যাত্রা শুরু হবে।

পথে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা, বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড়, খুলনার বাবরী চত্বর, ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের মুড়লীর মোড় এবং ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে মোট ছয়টি পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী জনসভা হবে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক দলগুলো নিজ নিজ অবস্থান থেকে লংমার্চ সফল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জামায়াতের পক্ষ থেকেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সাত দফা দাবির পক্ষে দেশব্যাপী জনমত গড়ে তোলার পাশাপাশি সরকারের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।

লংমার্চে ঢাকা ও আশপাশের জেলা ছাড়াও খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়াসহ মোট ১৯টি জেলার নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেবেন বলে জানান তিনি। বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি বহরে যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

কর্মসূচি সফল করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে নিয়ম অনুযায়ী যোগাযোগ করা হয়েছে বলেও জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, ঢাকা ও খুলনা রেঞ্জের পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায় থেকে সহযোগিতার আশ্বাসও পাওয়া গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।