নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
ওই শিক্ষার্থীর নাম জয়নাল আবেদিন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের বক্তব্য এবং ঘটনার ভিডিও থেকে জানা যায়, সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান দেখতে ক্যাম্পাসে যান জয়নাল। সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁকে ধাওয়া করে আটক করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
আটক করার সময় ছাত্রদলের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমি ও সুমন সরদার।
পরে জয়নালকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে পোগোজ স্কুলের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পুলিশের কাছে সোপর্দ করার আগে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জয়নালকে বলতে শোনা যায়, “ভাই, মাইরা ফালান আমারে। এখানে মাইরা ফালান আমারে। মারেন, মারেন, মাইরা ফালান।”
এ সময় তিনি আরও বলেন, “তারা আমাকে অন্যায়ভাবে ধরছে। যদি ছাত্রলীগের কোনো পদে আমি থাকি, তবে বিচার যা মন চায় করবে।”
জয়নালকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমি বলেন, “ক্যাম্পাসের কাঁঠালতলায় গেলে আমরা দেখতে পাই, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা অনুষ্ঠান নষ্ট করার জন্য বিভিন্ন অপতৎপরতা চালাচ্ছে। সেখান থেকে আমরা জবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একজনকে ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছি।”
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জয়নালকে তাঁদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। তাঁর ভাষ্য, “আমরা তার বিষয়ে যাচাই-বাছাই করছি। তার সঙ্গে ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা নিশ্চিত হয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”