বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো ধীরে ধীরে ক্ষমতাকেন্দ্রিক ‘বিজনেস মডেল’ হিসেবে গড়ে উঠছে বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, রাজনৈতিক অর্থায়নে ব্যক্তিনির্ভরতা ও অনানুষ্ঠানিক উৎসের ওপর নির্ভরশীলতা দলগুলোতে ব্যক্তি ও পরিবারকেন্দ্রিক রাজনীতির বিস্তার ঘটাচ্ছে। একই সঙ্গে দলগুলোর সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, গণতান্ত্রিক চর্চা, অংশগ্রহণ, অন্তর্ভুক্তি এবং অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সংস্কার জরুরি বলে মনে করছে সংস্থাটি।
রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকায় টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। গবেষণায় উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে সংস্থাটি এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ বদিউজ্জামান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন গবেষণা ও পলিসি বিভাগের রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট কাওসার আহমেদ ও কাজী আমিনুল হাসান এবং সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মো. জুলকারনাইন।
গবেষণার জন্য ৪২টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ করে টিআইবি। এর মধ্যে ৩৭টি নিবন্ধিত এবং পাঁচটি অনিবন্ধিত দল। তথ্য দিয়েছে ৩২টি দল। ২০০৮ সালে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তথ্যের ভিত্তিতে গবেষণাটি করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্যও ব্যবহার করা হয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চা এবং রাজনৈতিক অর্থায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার মতো শক্তিশালী আইনি কাঠামো নেই। বিদ্যমান বিধিবিধানের অনেক কিছুই আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের আইনি শর্তগুলো প্রতিযোগিতামূলক পৃষ্ঠপোষকতার পরিবেশ তৈরি করছে। ফলে দলগুলোকে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবসায়ী ও বিত্তশালীদের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, দলীয় কর্মকাণ্ডে গণতান্ত্রিক চর্চা, অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তির ঘাটতির কারণে ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেতৃত্ব, পরিবারতন্ত্র, কর্তৃত্বপরায়ণতা, অভিজাততন্ত্র, গরিষ্ঠতন্ত্র ও পুরুষতান্ত্রিক সংস্কৃতি শক্তিশালী হচ্ছে।
আইনি কাঠামো ও নিবন্ধনে সীমাবদ্ধতা
টিআইবির গবেষণায় বলা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২ অনুযায়ী প্রতিটি রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্র থাকা বাধ্যতামূলক এবং তা বাংলাদেশের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারবে না। তবে গবেষণায় সাতটি রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্রের সঙ্গে সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদের অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে।
আরপিওর ৯০খ ধারায় রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্রে শিক্ষক, ছাত্র, আর্থিক, বাণিজ্যিক বা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, শ্রমিক কিংবা অন্য কোনো পেশার সদস্যদের নিয়ে গঠিত সহযোগী বা অঙ্গসংগঠন না রাখার বিধান রয়েছে। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, গঠনতন্ত্রে উল্লেখ না থাকলেও প্রায় সব দল, বিশেষ করে বড় দলগুলো সহযোগী বা ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নামে ছাত্র ও পেশাজীবী সংগঠন পরিচালনা করছে।
নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন পাওয়ার ক্ষেত্রেও নিয়মবহির্ভূত অর্থ লেনদেনের অভিযোগ পেয়েছে টিআইবি। গবেষণায় বলা হয়েছে, অর্থ, পেশিশক্তি ও রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে অনেক ক্ষেত্রে দল গঠন এবং সহজে নিবন্ধন পাওয়ার ঘটনা ঘটছে। কয়েকটি নতুন দলকে নিবন্ধন দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি হস্তক্ষেপ কিংবা রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
দলীয় আয়-ব্যয়ের হিসাবে বড় অসংগতি
রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষণায় দেখা গেছে, নিবন্ধনের শর্ত পূরণে অন্তত ২২টি জেলা ও ১০১টি উপজেলায় কার্যালয় এবং কার্যক্রম পরিচালনা করতে একটি দলের বছরে আনুমানিক ১৪ থেকে ২৫ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। অথচ ওই দলের ঘোষিত আয়ের উৎস—সদস্যদের চাঁদা থেকে সর্বোচ্চ আয় মাত্র ২৬ লাখ টাকা।
টিআইবির হিসাব অনুযায়ী, সব জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যন্ত দলীয় কার্যক্রম বিস্তৃত থাকলে বার্ষিক ব্যয় দাঁড়াতে পারে ৩০২ থেকে ৩৯৩ কোটি টাকা। বিপরীতে সদস্যদের চাঁদা থেকে সম্ভাব্য আয় ১৪ থেকে ৩৮ কোটি টাকা। আর ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত সাংগঠনিক কার্যক্রম বিস্তৃত হলে বছরে ব্যয় হতে পারে ১ হাজার ৫৩২ কোটি থেকে ২ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা। সে ক্ষেত্রে সদস্যদের চাঁদা থেকে সম্ভাব্য আয় মাত্র ১১৬ কোটি টাকা।
দলগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনাতেও দুর্বলতা রয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক দলেরই আর্থিক নীতিমালা ও কার্যপ্রণালি বিধি নেই। গঠনতন্ত্রে আয়-ব্যয়, পদ অনুযায়ী সদস্যদের চাঁদার হার, অনুদান গ্রহণের শর্ত, মনোনয়ন ফরমের ফি, হিসাব সংরক্ষণ, আর্থিক লেনদেন, কেনাকাটা, নিরীক্ষা ও আর্থিক জবাবদিহি সম্পর্কে নির্দেশনা অস্পষ্ট। দলগুলো বার্ষিক বাজেটও তৈরি করে না। এমনকি জমা দেওয়া বার্ষিক আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষিত প্রতিবেদন দল কিংবা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয় না।
নেতৃত্বে পরিবারতন্ত্র ও ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা
দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অধিকাংশ দল জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে দলীয় প্রধান নির্বাচন করলেও গোপন ব্যালটের পরিবর্তে কণ্ঠভোটে নির্বাচন করে। দলীয় প্রধানের পদে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন গ্রহণের চর্চাও নেই বললেই চলে। কেবল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও এবি পার্টিতে একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দেখা গেছে।
টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিপিবি ছাড়া অন্য কোনো দলের গঠনতন্ত্রে একজন ব্যক্তি কতবার বা কত মেয়াদে দলীয় প্রধান থাকতে পারবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট বিধান নেই। গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ১০টি দলে পরিবারকেন্দ্রিক নেতৃত্বের চর্চা রয়েছে। এ ছাড়া ১২টি দলের প্রধান ১০ বছর বা তার বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন।
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, তিনটি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া তাদের গঠনতন্ত্রে উল্লেখ নেই। দলগুলোর গঠনতন্ত্রে অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য জাতীয় কাউন্সিল, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি ও উপকমিটির মতো আনুষ্ঠানিক কাঠামো থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ব্যক্তিনির্ভর।
অনিয়মিত কাউন্সিল ও মনোনয়ন-বাণিজ্যের অভিযোগ
জবাবদিহির বিষয়ে গবেষণায় দেখা গেছে, সব দলের গঠনতন্ত্রে জাতীয় কাউন্সিল বা কনভেনশনকে সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ফোরাম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে ১৬টি দলের কাউন্সিল সভা অনিয়মিত। এসব সভায় সাধারণত আগে থেকে নির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।
অধিকাংশ দলের গঠনতন্ত্রে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্তও উল্লেখ নেই। ছয়টি দলের গঠনতন্ত্রে জনপ্রিয়তা, সততা ও দলের প্রতি আনুগত্যের মতো বিষয় উল্লেখ থাকলেও সেগুলো স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত নয়।
গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে অর্থ-প্রতিপত্তি ও ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার দেয়। প্রভাবশালী তিনটি দলে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মনোনয়ন-বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। বিগত পাঁচটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ব্যবসায়ী প্রার্থী ও ব্যবসায়ী সংসদ সদস্যের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা গেছে।
দলগুলো ক্ষমতাকেন্দ্রিক ব্যবসায়িক কাঠামোয় পরিণত হচ্ছে
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশসহ যেকোনো দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক দলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় যতটুকু অর্জন হয়েছে, তার বড় অংশের কৃতিত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর। তবে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও যা অর্জিত হয়নি, তার দায়ও দলগুলোকে নিতে হবে।
তিনি বলেন, দলগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, গণতান্ত্রিক চর্চা, অংশগ্রহণ, অন্তর্ভুক্তি এবং অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধের কার্যকর ব্যবস্থার প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আইন-বিধিবিধান না মানার প্রবণতাও লক্ষণীয়।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন, সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ—সবকিছুই অতিমাত্রায় অর্থনির্ভর হয়ে পড়েছে। ফলে দলগুলো ব্যবসায়ী ও বিত্তশালীদের ওপর নির্ভরশীল হচ্ছে। রাজনৈতিক অর্থায়নে ব্যক্তিনির্ভরতা ও অনানুষ্ঠানিকতার কারণে প্রভাবশালী দলগুলোতে ক্ষমতার অপব্যবহার, কালোটাকার প্রভাব, দুর্বৃত্তায়ন ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বাড়ছে। এভাবে রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতাকেন্দ্রিক ‘বিজনেস মডেলে’ পরিণত হচ্ছে।
দলীয় কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, নারীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আইনি বাধ্যবাধকতা ও অঙ্গীকার থাকলেও বাস্তবে তেমন অগ্রগতি নেই। নারী নেতাকর্মীদের অন্তর্ভুক্তিতে অনীহা কিংবা তাঁদের প্রতীকী উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চা ও তৃণমূলের অংশগ্রহণের ঘাটতির কারণে একচ্ছত্র নেতৃত্ব, পরিবারতন্ত্র, কর্তৃত্বপরায়ণতা, অভিজাততন্ত্র ও পুরুষতান্ত্রিকতা আরও গভীর হচ্ছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনায় কিছু ক্ষেত্রে সাময়িক বা এডহক ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার নজির থাকলেও অভ্যন্তরীণ জবাবদিহির ঘাটতি রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, বড় দলগুলোতে অর্থ ও পেশিশক্তির ব্যবহার, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব অনেকটা স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। তাই দলগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে সুশাসন নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ সংস্কার অপরিহার্য। তবে এ সংস্কারের দায়িত্ব দলগুলোকেই নিতে হবে। দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ এবং জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য নিজেদের মৌলিক সংস্কারের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
টিআইবির ১২ সুপারিশ
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে সুশাসন নিশ্চিত করতে গবেষণা প্রতিবেদনে ১২টি সুপারিশ করেছে টিআইবি। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২ এবং রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৮-এর প্রয়োজনীয় সংশোধন। রাজনৈতিক দলগুলোকে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর আওতায় আনার সুপারিশও করেছে সংস্থাটি।
এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে দলগুলোর আর্থিক হিসাব যাচাই এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমের তদারকি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। আইনি বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে নিবন্ধিত চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং ফার্মের তালিকা তৈরির সুপারিশ করেছে টিআইবি। ওই তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর আর্থিক লেনদেন নিরীক্ষা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।
দলগুলোর গঠনতন্ত্রে কমিটি গঠন ও নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য নিয়মিত এবং নির্ধারিত সময়ের ব্যবধানে কাউন্সিল আয়োজনের বিধান রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিটি পর্যায়ের নেতৃত্ব গোপন ভোটে নির্বাচনের পাশাপাশি দলীয় প্রধানসহ নেতৃত্বস্থানীয় পদে একজন ব্যক্তি কত দিন দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, তা নির্দিষ্ট করার কথাও বলেছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে দলের নেতৃত্ব এবং নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।