শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

বিশেষ কমিটির মতবিনিময় বৈঠকে যোগদান না করার সিদ্ধান্তে জামায়াতসহ ১০ দল

দেশ পরিচালন ব্যবস্থার মৌলিক রূপরেখায় পরিবর্তন আনতে বিভিন্ন মহলের মতগ্রহণের ধারাবাহিকতায় সনদে থাকা দলগুলোকে তাদের দলীয় ও জোটগত প্রস্তাবনা উপস্থাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াটি সামগ্রিকভাবে জনমতের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। এই প্রেক্ষাপটে আগেই জাতীয় আইনসভা থেকে প্রতিবাদ হিসেবে সংসদ সদস্যরা অধিবেশন ত্যাগ করায় এই কমিটির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো সংলাপে বসার অবকাশ তাদের নেই।

বিশেষ কমিটির মতবিনিময় বৈঠকে যোগদান না করার সিদ্ধান্তে জামায়াতসহ ১০ দল
শাসনতন্ত্র পরিমার্জনের বিষয়ে মতামত গ্রহণের লক্ষ্যে প্রণীত ঐতিহাসিক জুলাই সনদে সম্মতি প্রদানকারী দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভার উদ্যোগ নিয়েছে সংবিধান সংশোধন বিষয়ক সংসদীয় বিশেষ কমিটি। রোববার সংসদ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিতব্য কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকের কার্যসূচিতে অংশীজনদের এই সংলাপ অন্তর্ভুক্ত থাকলেও এতে যোগ না দেওয়ার কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের অন্তর্ভুক্ত সাতটি দলসহ মোট দশটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। বিপরীতে নাগরিক ঐক্য ও গণফোরামের মতো আরও দশটি দল এই বৈঠকে অংশ নেওয়ার সম্মতি জানিয়েছে।

বিগত অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের তত্ত্বাবধানে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যেগে তৈরি হয়েছিল ঐতিহাসিক জুলাই দলিল। গত বছরের ১৭ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে ২৪টি রাজনৈতিক দল আনুষ্ঠানিকভাবে ওই চুক্তিতে সিলমোহর দেয়। পরবর্তীতে গণফোরাম এবং ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের পরপর এনসিপি যুক্ত হলে সনদে একাত্মতা পোষণকারী দলের সংখ্যা দাঁড়ায় ছাব্বিশে, যদিও সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় তিরিশটি রাজনৈতিক দল সম্পৃক্ত ছিল।

কমিটির আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র অনুসারে, দেশ পরিচালন ব্যবস্থার মৌলিক রূপরেখায় পরিবর্তন আনতে বিভিন্ন মহলের মতগ্রহণের ধারাবাহিকতায় সনদে থাকা দলগুলোকে তাদের দলীয় ও জোটগত প্রস্তাবনা উপস্থাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াটি সামগ্রিকভাবে জনমতের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। এই প্রেক্ষাপটে আগেই জাতীয় আইনসভা থেকে প্রতিবাদ হিসেবে সংসদ সদস্যরা অধিবেশন ত্যাগ করায় এই কমিটির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো সংলাপে বসার অবকাশ তাদের নেই।

একই সুরে এনসিপির নীতি নির্ধারণী পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার নিশ্চিত করেছেন যে, তাদের জোটের কোনো প্রতিনিধি এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন না। এদিকে ১১ দলীয় ঐক্যের বাইরে থাকা খেলাফত মজলিসের শীর্ষ নেতা আহমদ আবদুল কাদেরও বৈঠক থেকে বিরত থাকার কথা জানিয়েছেন এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেনও একই অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেছেন। তবে ইসলামী আন্দোলন ও জেএসডি এখন পর্যন্ত তাদের যোগদানের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।

অন্যদিকে সনদে সম্পৃক্ত থাকা অন্য ধারার দশটি দল আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজেদের মতামত জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার মতে, যেকোনো রূপান্তর বা সংযোজন-বিয়োজন শেষ পর্যন্ত আইনি সংশোধনীর মাধ্যমেই আইনসভায় অনুমোদিত হতে হয়, তাই বিতর্কে না জড়িয়ে বৈঠকে মৌলিক পরিবর্তন ও গণভোটের যৌক্তিকতা তুলে ধরাই সমীচীন। অনুরূপভাবে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, আলোচনার টেবিলে তাদের পক্ষ থেকে বাহাত্তরের সংবিধান এবং মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক মূল্যবোধ সুরক্ষার ওপর সর্বাধিক জোর দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলোর মধ্যে সাংগঠনিক রদবদলের কারণে ইতোমধ্যে এনডিএমের সাবেক প্রধান ববি হাজ্জাজ এবং এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফারহাদসহ একাধিক জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব সাধারণ নির্বাচনের আগেই জাতীয়তাবাদী দলে যুক্ত হয়ে বর্তমান প্রশাসনের অংশ হয়েছেন। এই বিভক্ত রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যেই সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সংবিধান সংশোধন বিষয়ক এই দ্বিতীয় বৈঠক।