শনিবার, 24 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

টঙ্গীতে মাদ্রাসাছাত্রীর যৌন নিপীড়নের মামলা, আদালতে জবানবন্দি; কারাগারে উপাধ্যক্ষ

গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে করা মামলায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে শিশুটি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মো. মোসলেম উদ্দিনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

টঙ্গীতে মাদ্রাসাছাত্রীর যৌন নিপীড়নের মামলা, আদালতে জবানবন্দি; কারাগারে উপাধ্যক্ষ
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে করা মামলায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে শিশুটি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মো. মোসলেম উদ্দিনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

শনিবার পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার গাজীপুর মহানগর হাকিম আদালতে বিচারকের কাছে জবানবন্দি দেয় শিশুটি। একই দিন শিশুটির বাবার করা মামলায় মোসলেম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মোসলেম উদ্দিন (৩০) টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ক্বরীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ।

শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এবং শিক্ষককে মারধর ও মাদ্রাসায় ভাঙচুরের ঘটনায় টঙ্গী পশ্চিম থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দুটি ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। চূড়ান্ত তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

পুলিশ জানায়, মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার মাদ্রাসার ভেতরে প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করেন উপাধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দিন। ঘটনার কথা কাউকে জানালে মারধর করা হবে বলে শিশুটিকে হুমকি দেন তিনি। এতে শিশুটি আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং টানা তিন দিন মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ রাখে।

পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে চাইলে শিশুটি তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া শারীরিক হেনস্থার কথা মা-বাবাকে জানায়। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

বুধবার দুপুরে শিশুটির বাবা মাদ্রাসায় গিয়ে উপাধ্যক্ষের কাছে এ বিষয়ে জবাব চান। এ সময় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আরও কয়েকজন জড়ো হন। একপর্যায়ে শিশুটির বাবা শিক্ষককে ঘুষি মারেন। পরে সেখানে উপস্থিত অন্য ব্যক্তিরাও তাঁকে মারধর করেন। মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক এ সময় মোসলেম উদ্দিনকে রক্ষার চেষ্টা করেন।

খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষককে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এরপর শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তার বাবা মামলা করেন। অন্যদিকে, শিক্ষককে মারধর ও মাদ্রাসায় ভাঙচুরের ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষও পৃথক মামলা করে।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের করা মামলায় হামলা ও ভাঙচুরের সময় ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগও আনা হয়েছে শিশুটির বাবা ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে।

মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ বারীজুল আলমগীর হোসেনের অভিযোগ, এক অভিভাবকের নেতৃত্বে ১৫ জনের একটি দল মাদ্রাসায় ঢুকে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধর ও শ্লীলতাহানির পাশাপাশি প্রায় ১৭ লাখ টাকা লুট করা হয়। শিশুটির বাবা মাদ্রাসায় ‘মব’ পরিস্থিতি তৈরি করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে শুক্রবার গভীর রাতে নিজের বাসায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন শিশুটির বাবা। তিনি বলেন, মাদ্রাসায় কোনো ‘মব’ পরিস্থিতি তৈরি করতে যাননি; বরং মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতেই সেখানে গিয়েছিলেন।

টাকা লুটের অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি মেয়ের ঘটনার বিচার দাবি করেন শিশুটির বাবা।