ইরানের জাহাজ চলাচল ও তেল বাণিজ্যসংক্রান্ত নেটওয়ার্ককে আইনি সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে গ্রিস ও পানামাভিত্তিক আইনি প্রতিষ্ঠান কারনাকিস অ্যান্ড কারনাকিসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় বুধবার (২১ অক্টোবর) মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দেয়।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত নেটওয়ার্ককে আইনি সহায়তা দিয়ে আসছিল।
এদিকে, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য আর্থিক সম্পর্ক খতিয়ে দেখতে গ্রিসের একটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে তদন্ত জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক অপরাধবিষয়ক সংস্থা ফিনসেন (ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইমস এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক)। এ বিষয়ে ব্যাংকটিকে প্রশাসনিকভাবে নথিপত্র তলবের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে ব্যাংকটির নাম প্রকাশ করা হয়নি।
এ ছাড়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে ইউরোপের আরও ছয়টি ব্যাংকের কাছে তথ্য চেয়েছে সংস্থাটি। এসব ব্যাংকের নামও জানানো হয়নি।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, সমুদ্রে অবৈধভাবে তেল স্থানান্তর করা হোক কিংবা কোনো আইনি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কক্ষে বসে এসব কর্মকাণ্ডে সহায়তা করা হোক—ইরানি সরকারকে সমর্থন দিলে সংশ্লিষ্টদের খুঁজে বের করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগটের অভিযোগ, কারনাকিস অ্যান্ড কারনাকিস বহু বছর ধরে বিভিন্ন ভুয়া বা কাগুজে কোম্পানি তৈরি করেছে। এসব কোম্পানির মাধ্যমে ইরানের তেল, পেট্রোকেমিক্যাল ও ইস্পাত পরিবহণকারী জাহাজগুলোর প্রকৃত মালিকানা আড়াল করা হতো।
তার দাবি, এসব কোম্পানি মূলত আড়াল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এর মাধ্যমে ইরানের লাখ লাখ ব্যারেল তেল বিক্রির সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন নেটওয়ার্ককে সহায়তা করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এসব বাণিজ্য থেকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্স এবং ইয়েমেনের হুথিরা লাভবান হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কারনাকিস অ্যান্ড কারনাকিস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইরানের তেল পরিবহণে সহায়তার অভিযোগে সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কয়েকটি জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত এজেন্টের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান ইরানের গোপন তেল পরিবহণ নেটওয়ার্ক পরিচালনায় সরাসরি সহায়তা করছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। চলতি মাসে দেশটিতে নতুন করে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকলেও ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি দেশটির জাহাজ চলাচল, তেল বাণিজ্য এবং এসব কর্মকাণ্ডে সহায়তাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে।